১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১ কার্তিক ১৪৩৩

আলবার্টার স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটের আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ঐক্যের ডাক

আলবার্টার স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটের আগে কানাডার ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সতর্ক করেছেন, এই ভোটের ‘ঝুঁকি অনেক বড়।”

আলবার্টার স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটের আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ঐক্যের ডাক

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটের আগে ক্যালগ্যারির বিএমও সেন্টারে আয়োজিত ‘ফরএভার কানাডিয়ান’ সমাবেশে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 16 Oct 2026, 12:35 PM

Updated : 16 Oct 2026, 12:35 PM

কানাডা থেকে তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশের আলাদা হওয়ার প্রশ্নে অনুষ্ঠেয় ঐতিহাসিক গণভোটের আগে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

সোমবারের এই ভোটের ফলাফল কানাডার ভবিষ্যতের জন্য ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হতে পারে বলে ভোটারদের সতর্ক করেছেন তিনি।

বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার ক্যালগ্যারিতে কানাডার ঐক্যপন্থিদের এক সমাবেশে সাত হাজারের বেশি মানুষের সামনে বক্তব্য দেন কার্নি। তিনি বলেন, সবচেয়ে সংকটময় এক সময়ে এই গণভোট হতে যাচ্ছে।

আলাদা হওয়ার বিপক্ষে একটি ‘স্পষ্ট ও চূড়ান্ত রায়’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জরিপ দিয়ে ফলাফল নির্ধারিত হবে, এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। শেষ পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতির হারই ফল ঠিক করে দেবে।”

ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ আলবার্টাবাসী ডাকযোগে আগাম ভোট দিয়েছেন।

ব্যালট পেপারে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তারা কি কানাডার অংশ হিসেবেই থাকতে চান, নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হওয়ার জন্য একটি বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চান।

জরিপ অনুযায়ী বেশিরভাগ মানুষ কানাডায় থাকার পক্ষে হলেও শেষ মুহূর্তের প্রচারে সরব রয়েছে দুই পক্ষই।

আলবার্টা সফরে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত দুটি সমাবেশের প্রথমটি ছিল ক্যালগ্যারিতে। শুক্রবার নিজ শহর এডমন্টনে দ্বিতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিনভর ক্যালগ্যারির বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘুরে ঐক্যপন্থি স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে ভোটারদের কেন্দ্রে আনার প্রচারে অংশ নেন কার্নি।

তৃণমূল পর্যায়ের একটি নাগরিক উদ্যোগে প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করার পর চলতি বছরের শুরুর দিকে ১৯ অক্টোবরের এই গণভোটের ডাক দেন প্রদেশের প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ।

কনজারভেটিভ দলের এই নেতার রাজনৈতিক ভিত্তির বড় অংশ স্বাধীনতাপন্থি হলেও তিনি নিজে কানাডায় থাকার পক্ষে। তবে স্মিথ বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে জনগণের মতামত সরাসরি জানতেই এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

স্বাধীনতাপন্থিদের অভিযোগ, তেলসমৃদ্ধ ও চারদিকে স্থলবেষ্টিত আলবার্টা কানাডার অর্থনীতিতে বিপুল অবদান রাখা সত্ত্বেও অটোয়ার ফেডারেল সরকার প্রদেশটিকে অবহেলা করেছে।

তাদের দাবি, গত এক দশকে টানা লিবারেল সরকারগুলোর আরোপিত পরিবেশনীতি প্রদেশটির তেল ও গ্যাস খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে আলাদা হতে পারলে আলবার্টা নিজেদের সম্পদ নিজেদের কাছেই ধরে রাখতে পারবে।

অন্যদিকে আলাদা হওয়ার বিরোধীরা সতর্ক করে বলছেন, স্বাধীন হলে আলবার্টাকে একাই কয়েক বিলিয়ন ডলারের ঋণের দায়ভার নিতে হবে এবং চরম অনিশ্চয়তায় হাজার হাজার কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ প্রদেশ ছেড়ে চলে যাবে।

কার্নি এই পরিস্থিতিকে ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া বা ‘ব্রেক্সিট’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বিচ্ছিন্ন হওয়ার এমন রায় অপ্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে।

ভাষণে কার্নি বলেন, “আলবার্টাবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনাবোধ যে সত্যি, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।”

সরকার আলবার্টার জ্বালানি শিল্পকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

গণভোটের প্রাক্কালে আলবার্টা থেকে কানাডার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত নতুন একটি তেলের পাইপলাইন নির্মাণে দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

এই প্রকল্পকে ‘কানাডার শক্তির এক বড় নিদর্শন’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত আমদানি শুল্কের ধাক্কা সামলানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি বহুমুখীকরণে এই পাইপলাইন দেশকে বড় শক্তি জোগাবে।

শুক্রবার ক্যালগ্যারিতে কনজারভেটিভ দলের প্রধান ও কেন্দ্রীয় বিরোধীদলীয় নেতা পিয়ের পয়লিয়েভকে সঙ্গে নিয়ে আলাদা ঐক্য সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রিমিয়ার স্মিথের।

অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে শনিবার এডমন্টনে বড় সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে স্বাধীনতাপন্থিরা।

প্রাথমিক জরিপে এবার ভোটারদের নজিরবিহীন আগ্রহ দেখা গেছে। এরই মধ্যে যে সংখ্যক আগাম ভোট পড়েছে, তা আলবার্টার গত সাধারণ নির্বাচনের মোট ভোটের চেয়েও বেশি।