২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে গরুর মাংসের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা

টেক্সাস, ওকলাহোমা এবং কানসাসের গবাদি পশু শিল্প সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে যে, আইসিই কর্মকর্তাদের অভিযান গরুর মাংসের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে গরুর মাংসের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা

কানসাসের গরুর খামার। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 08:01 PM

Updated : 27 Sep 2026, 08:01 PM

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইসিই) কর্মকর্তাদের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ফলে দেশটিতে গরুর মাংসের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস, টেক্সাস এবং ওকলাহোমার মতো প্রধান প্রধান গবাদিপশু উৎপাদনকারী ও প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলগুলোতে আইসিই কর্মকর্তাদের এই অভিযান চলছে।

টেক্সাস, ওকলাহোমা এবং কানসাসের গবাদি পশু শিল্প সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে যে, আইসিই কর্মকর্তাদের অভিযান গরুর মাংসের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করছে।

হাজার হাজার গবাদি পশুর চালানে দেরি হচ্ছে এবং লাখ লাখ ডলারের ক্ষতি ও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। যদিও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট নিউজউইক-কে জানিয়েছে যে, কানসাসে আইসিই কোনও কর্মক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনা করছে না।

কানসাস লাইভস্টক অ্যাসোসিয়েশন, ওকলাহোমা ক্যাটলমেনস অ্যাসোসিয়েশন এবং টেক্সাস ক্যাটল ফিডার্স অ্যাসোসিয়েশন ২৪ সেপ্টেম্বর এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তিন রাজ্যে কৃষি সম্প্রদায়ের ওপর আইসিই অভিযানের প্রভাবের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এই অভিযানের কারণে গবাদিপশু (যেমন- গরু, দুগ্ধ খামার) ব্যবসার কাজকর্মে বড় বিঘ্ন ঘটছে।

অ্যাসোসিয়েশনগুলো বলছে, আইসিই অভিযানের কারণে আইনি ও বৈধ কাগজপত্র থাকা দক্ষ শ্রমিকদের মধ্যেও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যারা খাবারের টেবিলে মাংস জোগাতে এবং গবাদিপশু সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে মূল ভূমিকা পালন করছেন।

মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে কাজ করা অভিবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই গ্রেপ্তারের আতঙ্কে কাজে আসছেন না। ফলে কারখানাগুলোতে কাজের গতি মারাত্মকভাবে থমকে আছে।

খামার থেকে প্রসেসিং প্ল্যান্টে হাজার হাজার গবাদিপশু সময়মতো পাঠানো যাচ্ছে না, যার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অ্যাসোসিয়েশনগুলো সতর্ক করে বলেছে, এই বিঘ্নের কারণে ক্রেতাদের জন্য গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, অগাস্ট মাসে ১০০ শতাংশ কিমা করা গরুর মাংসের গড় দাম প্রতি পাউন্ড ৬দশমিক ৯২ ডলার ছিল।

ভোক্তারা চড়া দামের মুখোমুখি হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের গরুর মাংসের নীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছেন।

তার জনপ্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় বড় গরুর মাংস উৎপাদনকারী রাজ্যেও কমে গেছে, যার মধ্যে এমন কিছু রাজ্য রয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি অনায়াসেই জয়লাভ করেছিলেন।

গরুর মাংসের অতিরিক্ত দাম কমানোর জন্য সরকার এখন বড় বড় সুপারশপ বা বিক্রেতাদের ওপর নজর রাখছে। ওয়ালমার্টের মতো ৮টি বড় কোম্পানি কীভাবে মাংসের দাম ঠিক করছে, তা মার্কিন বিচার বিভাগ তদন্ত করে দেখছে।

গবাদিপশু পালনকারী গোষ্ঠীগুলো বলছে, তারা অভিবাসন আইন প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব স্বীকার করে, তবে তারা যুক্তি দিয়েছে যে, হঠাৎ করে যদি খামারের শ্রমিক কমে যায়, তাহলে পশুদের যত্ন নেওয়া কঠিন হবে, খামারের কাজ ব্যাহত হবে এবং আর্থিক ক্ষতি হবে। আর এই ক্ষতির প্রভাব শুধু ওই খামারগুলোর ওপরই পড়বে না, বরং গোটা দেশের ওপরই পড়বে।