২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭ কার্তিক ১৪৩৩

পাঁচ বছর পর মায়ের সঙ্গে প্রথম কথা বললেন অং সান সু চির ছেলে

অং সান সু চির ছেলে কিম অ্যারিস লন্ডনে মিয়ানমার দূতাবাসের মাধ্যমে টেলিফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সমর্থিত প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।

পাঁচ বছর পর মায়ের সঙ্গে প্রথম কথা বললেন অং সান সু চির ছেলে

অং সান সু চি। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Oct 2026, 12:26 AM

Updated : 23 Oct 2026, 12:26 AM

মিয়ানমারে গৃহবন্দি গণতন্ত্রপন্থি সাবেক নেত্রী অং সান সু চির ছেলে কিম অ্যারিস জানিয়েছেন, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর তিনি প্রথম তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।

অ্যারিস বহু বছর ধরেই তার ৮১ বছর বয়সী মায়ের সম্পর্কে কেবল মাঝে মাঝে পরোক্ষোভাবে খবর পেয়ে আসছিলেন। এবার তিনি সরাসরি মা সু চির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন।

কথপোকথনের সেই অনুভূতির কথা জানিয়ে অ্যারিস এক বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন পর মায়ের কণ্ঠ শুনতে পারাটা তার কাছে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সমর্থিত প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, অং সান সু চির ছেলে অ্যারিস লন্ডনে মিয়ানমার দূতাবাসের মাধ্যমে টেলিফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের দুজনের আলাদা ছবি শেয়ার করেছেন।

নোবেল পুরস্কার জয়ী সু চি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বন্দি হয়ে আছেন। ওই বছর মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে সু চির নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং বেসামরিক নেতারা আটক হন।

সেনা অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ পরে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপ নেয় এবং এই দেশটিকে বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়; এই যুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

অং সান সু চিকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কারাগার থেকে সরিয়ে নিয়ে গৃহবন্দি করা হয়।বিভিন্ন অভিযোগে তাকে মোট ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সু চি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।

সু চির ছেলে অ্যারিস বলেন, “আমার মাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। একটি কথোপকথন তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া এতগুলো বছর ফিরিয়ে দিতে পারে না।’ তাকে নিয়মিত, সরাসরি ও ব্যক্তিগত পারিবারিক যোগাযোগ এবং স্বাধীন চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে।"

বহু বছর ধরে সু চির স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা সম্পর্কে খুব কম তথ্যই সামনে এসেছে। এতে তার সমর্থক এবং বিদেশি সরকারগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে।

গত আগস্ট মাসে সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির একজন কর্মকর্তার দেখা হয়েছিল। সু চির ছেলে আরিস তখন এই সাক্ষাৎকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছিলেন।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পাঠানো দুটি বই ও একটি সিলগালা চিঠি পাওয়ার ছবিও প্রকাশ করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

অ্যারিস বলেছেন, “সর্বোপরি, আমার মা এবং সব রাজনৈতিক বন্দিকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। স্বাধীনতা কোনও অনুগ্রহ নয়, যা মঞ্জুর করা যায়, বা কোনও ছাড় নয় যা নিয়ে আলোচনা করা যায়।”