২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জনই ব্রিটিশ

পাঁচজনই লন্ডনের বাসিন্দা এবং বয়স ২০ এর কোঠায়। তাদেরকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাস বিরোধী পুলিশ।

যুক্তরাজ্যের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জনই ব্রিটিশ

ছবি: বিবিসি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 10:23 PM

Updated : 28 Sep 2026, 10:23 PM

পশ্চিম ইংল্যান্ডের বিমান ঘাঁটি 'আরএএফ ফেয়ারফোর্ড' এর কাছ থেকে সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রস্তুতির সন্দেহে রোববার গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জনই ব্রিটিশ নাগরিক।

তাদের বয়স ২০ এর কোঠায় এবং সবাই লন্ডনের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিস্ফেরক আইনে অপরাধ সংঘটনের সন্দেহেও তাদেরকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

তবে তাদেরকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সন্ত্রাস বিরোধী পুলিশ। পুলিশের অ্যাসিসটেন্ট কমিশনার লরেন্স টেলর বলেছেন, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। পুলিশ বিভিন্ন দিক থেকে বিষয়টি নিয়ে খতিয়ে দেখছে।

কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করা (প্রক্সি) কেউ এতে জড়িত থাকতে পারে কিনা সেটিও ভেবে দেখছে পুলিশ। আরএএফ বিমান ঘাঁটিটি আগে ইরানের ওপর হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক সূত্র রোববার জানিয়েছিল, ঘটনার পেছনে ইরানের হাত থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের জড়িত থাকার কোনওরকম সম্ভাবনা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস।

ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় সময় রোববার ভোররাতের দিকে। পুলিশ জানায়, মার্কিন বিমানঘাঁটির দিকে এগিয়ে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক সাদা ভ্যানের বিষয়ে খবর পায় তারা।

পরে স্থানীয় এক নারীও বিমানঘাঁটির কাছের একটি সড়কে তিনটি সাদা ভ্যান দেখতে পান। গাড়িগুলো রাস্তা ও একটি খামারের প্রবেশপথ আটকে রেখেছিল।

ওই নারী ব্যাকপ্যাক থাকা এবং হুড ও মাস্ক পরা একদল লোক দেখতে পান। তাকে দেখে কয়েকজন মাঠের দিকে এবং কয়েকজন পাশের কেম্পসফোর্ড গ্রামের দিকে দৌড়ে পালালে তিনি জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান।

তার ফোনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ এলাকায় পৌঁছায়। পুলিশের অভিযানে সময় স্থানীয় প্রায় ৮৫টি পরিবারকে সাময়িকভাবে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়।

বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞরা তিনটি যানবাহন পরীক্ষা করেন এবং এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত ঘাঁটির কাছে এ সন্দেহজনক ঘটনার কারণেই তদন্তে সম্ভাব্য ইরানি যোগসূত্রের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

তবে ইরানের সম্পৃক্ততার কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। আটকদের সঙ্গে ইরানের কোনও যোগ রয়েছে কি না বা তাদের লক্ষ্য বিমানঘাঁটিই ছিল কি না তাও এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে রয়েছে এই আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি। পুরো ঘাঁটিটি দেখভাল করে রয়্যাল এয়ারফোর্স। তবে দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহার করে আসছে মার্কিন সেনারা।

ঘাঁটির কাছ থেকে ৫ জন গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার।’

এর মধ্যেই ব্রিটিশ পুলিশকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। তিনি বলেন, ‘দারুণ ব্যাপার।

আমাদের ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষতি করার পরিকল্পনা চলছিল। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা তাদের উপরে নজর রাখছিলাম। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে অসাধারণ কাজ হয়েছে।”