১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জাপানের সামুদ্রিক খাবার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলল চীন

ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে পরিশোধিত তেজস্ক্রিয় পানি সমুদ্রে ছাড়ার পর দূষণের আশঙ্কায় ২০২৩ সালে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল চীন।

জাপানের সামুদ্রিক খাবার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলল চীন
ছবি: রয়টার্স।

বিডিনিউজ২৪

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jun 2025, 07:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:17 PM

প্রায় দুই বছর পর জাপানের সামুদ্রিক খাবারের ওপর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নিয়েছে চীন।

ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে পরিশোধিত তেজস্ক্রিয় পানি সমুদ্রে ছাড়ার পর দূষণের আশঙ্কায় চীন ২০২৩ সালে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

বিবিসি জানিয়েছে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে জাপানের বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে সামুদ্রিক খাদ্য আবার চীনে রপ্তানি করা যাবে। তবে এখনও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকছে ফুকুশিমা, টোকিও, মিয়াগিসহ ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চল।

চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ফুকুশিমার তেজস্ক্রিয় দূষিত পানির সংগৃহীত নমুনায় কোনও অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। বেইজিং বলেছে তারা জাপান থেকে শর্তসাপেক্ষে আবার সামুদ্রিক খাবার আমদানি শুরু করবে।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে চীন ছিল জাপানের সামুদ্রিক খাদ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ফলে এ নিষেধাজ্ঞা জাপানের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

জাপান চীনের নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তবে টোকিও বলেছে, তারা চীনকে সব অঞ্চলের সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি ফের চালু করার আহ্বান জানাবে।

২০১১ সালের সুনামিতে জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরমাণু চুল্লিগুলোকে শীতল রাখতে সমুদ্র থেকে প্রচুর পানি সেখানে প্রবেশ করানো হয়। পরে জাপান ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থা থেকে নিরাপত্তা মানের অনুমোদন পাওয়া পর ২০২৩ সালের অগাস্ট মাস থেকে জাপান পারমাণবিক কেন্দ্রটির পানি সমুদ্রে ছাড়া শুরু করে; যা নিয়ে চীনসহ জাপানের প্রতিবেশী দেশগুলো তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল।

পারমাণবিক কেন্দ্রটির তেজস্ক্রিয়-দূষিত পানি পরিশোধন করে সমুদ্রে নিরাপদ বলে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ মত দিলেও কিছু বিজ্ঞানী বলেছেন, এই পানির কী প্রভাব সমুদ্রে পড়বে তা নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা করা হয়নি।

জাপানের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে চীন পরিবশের ক্ষতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখিয়ে জাপান থেকে সামুদ্রিক খাবার কেনা নিষিদ্ধ করেছিল।