১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

ফ্রান্সে অস্থিরতা প্রশমনে কয়েকটি নগরীতে আংশিক কারফিউ জারির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সজুড়ে চলমান সহিংস বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও শপিংমল বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ঠেকাতে আংশিক কারফিউ জারির এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ফ্রান্সে অস্থিরতা প্রশমনে কয়েকটি নগরীতে আংশিক কারফিউ জারির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সে সহিংসতা। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Oct 2026, 06:09 PM

Updated : 19 Oct 2026, 06:09 PM

ফ্রান্সে জনসাধারণ এবং দোকানপাটের সুরক্ষায় কিছু নগরীকে আংশিক কারফিউ জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকরনু।

সপ্তাহান্তের দাঙ্গা এবং লুটপাটের পর এই পদক্ষেপ নিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “মানুষ জানতে চায় কীভাবে আমাদের দেশে এই সহিংসতার সৃষ্টি হল।”

ফ্রান্সজুড়ে চলমান সহিংস বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও শপিংমল বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ঠেকাতে আংশিক কারফিউ জারির এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই স্থানীয় কারফিউ কার্যকর করা হচ্ছে।

জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও জন পরিষেবার অবনতিশীল অবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ লাখ লাখ মানুষ শনিবার ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ করে।

বিভিন্ন শহরে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, দোকানপাটে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে, সরকারি বিভিন্ন ভবনে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পুলিশ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে।

পরে রোববার বিকালে রাজধানী প্যারিস ও মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালানো চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিক্ষোভের সময় দাঙ্গা এবং সহিংসতার জন্য গ্রেপ্তার হওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ফৌজদারি অপরাধের মুখোমুখি হয়েছেন।

জনগণের নিরাপত্তা ও ব্যবসার সুরক্ষার জন্য স্থানীয় মেয়রদের নিজ নিজ এলাকায় আংশিক কারফিউ জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তবে কোন কোন শহর এই ক্ষমতা পেয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

যারা সম্পত্তির ক্ষতি করেছে, তাদের অর্থ দিয়েই সম্পত্তি মেরামত করা হবে। আর তা করার জন্য একটা আইন প্রণয়ন করা হবে।

যেসব মানুষের কাজকর্ম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু না থাকার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করার জন্য সরকার বা কোনও সংস্থা একটা বিশেষ তহবিল তৈরি করছে।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এই অশান্তির জন্য চরম বামপন্থি দলগুলোকে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি, তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই দলগুলো আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।