Published : 12 May 2026, 12:54 PM
যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা না দেখা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুটি বিকল্পের কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
এই বিকল্পগুলোর মধ্যে আছে- হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধ ভেঙে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পুনরায় শুরু করা, কিংবা নতুন সামরিক অভিযান।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের কাছে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, তেহরান তার জবাব দেওয়ার পর ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি ‘বড় ধরনের লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবকে তিনি ‘স্টুপিড’ আখ্যাও দেন।
ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে দেশের ভেতর চাপে থাকার কথা অস্বীকার করে মার্কিন এ কমান্ডার এ চিফ সোমবার নিজেই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এক মাস আগের যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, “তারা যে আবর্জনা পাঠিয়েছে তা পড়ার পর এই মুহূর্তে আমি একে সবচেয়ে দুর্বল বলতে পারি, আমি ওটা পুরোটা পড়তেও পারিনি।
“আমি বলতে পারি, যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের লাইফ সাপোর্টে রয়েছে, যখন চিকিৎসক হেঁটে আসবেন এবং বলবেন, ‘স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বড়জোর ১ শতাংশ।’”
তেহরানের সঙ্গে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর থেকে ট্রাম্প শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে ফের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছেন বলে আগেই খবর বেরিয়েছিল।
নতুন অভিযান নিয়ে সোমবার ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বসেছেন বলে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন, সিআইএ পরিচালক জন রেটক্লিফ ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন বলেও জানানো হয়েছে।
অ্যাক্সিওস বলছে, ওয়াশিংটন এখন আগে শনাক্ত করা লক্ষ্যবস্তু, যেগুলোতে এখনও হামলা হয়নি, তার ২৫ শতাংশে হামলা চালানোর কথা ভাবছে।
এদিকে ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার চাইছে, ট্রাম্প ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দিক। তবে অনেক ইসরায়েলি কর্মকর্তারই ধারণা, এ ধরনের অভিযান ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ট্রাম্প হয়তো সে পথে হাঁটবেন না।
ট্রাম্প চাইছেন যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে। কিন্তু তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সিংহভাগ দাবি মানতে রাজি না হওয়ায় এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ায় ওয়াশিংটন ফের সামরিক অভিযানের চিন্তা শুরু করেছে।
কূটনীতি ব্যর্থ হলে ইরানি স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পও একাধিকবার দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের এবারের পাঠানো প্রস্তাব নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিল। ইরান তাতে ‘ইতিবাচকভাবে’ সাড়া দেবে এ ভাবনায় ট্রাম্প তেহরানের জবাবের জন্য এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অপেক্ষায়ও ছিলেন।
কিন্তু রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলে, এসব শর্ত মানার অর্থ হচ্ছে ‘ট্রাম্পের বাড়াবাড়ির কাছে আত্মসমর্পণ করা’।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্টও ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করেন। বলেন, “আমার এটি পছন্দ হয়নি, এটি যথোপযুক্ত নয়।”
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু রোববার তিনি জানান, ইরানিরা দৃশ্যত তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। কেননা মার্কিন প্রস্তাবের তারা যে জবাব দিয়েছে সেখানে এ প্রসঙ্গে কোনো কথাই নেই।
এনডিটিভি লিখেছে, ট্রাম্প ইরান নিয়ে একাধিক বিকল্প ভাবলেও তিনি সম্ভবত চলতি সপ্তাহের চীন সফর শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
বুধবার তার এশীয় দেশটির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা, ফিরবেন শুক্রবার। এ সফরে বেইজিংয়ের সঙ্গে তিনি ইরান নিয়েও কথা বলবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তেহরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনও ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখতে তাগাদা দিয়ে আসছে।