২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩

নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে গুলিবর্ষণকারী স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করতে চান

শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ট্যারান্ট ২০১৯ সালে জুমার নামাজ চলাকালে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে ৫১ জন মুসুল্লিকে হত্যা করেছিলেন।

নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে গুলিবর্ষণকারী স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করতে চান
মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ৫১ মুসলিমকে হত্যাকারী শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ব্রেন্টন ট্যারান্ট। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2026, 03:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

নিউ জিল্যান্ডে সাত বছর আগে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ৫১ মুসলিমকে হত্যাকারী শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ব্রেন্টন ট্যারান্ট আদালতের কাছে দেওয়া তার অপরাধের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করতে চান। 

সোমবার তিনি দাবি করেছেন, যখন দোষ স্বীকার করেছিলেন তখন তিনি ‘বিচারশক্তিহীন’ ছিলেন। 

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এ দিন নিউ জিল্যান্ডের ওয়েলিংটনের এক আদালতে স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করে এমন দাবি করেন তিনি। 

ট্যারান্ট (৩৫) এ দিন ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে নিজের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ দাখিল করেন ও দণ্ড বাতিল চেয়ে বিচার দাবি করেন।  

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ট্যারান্ট ২০১৯ সালের মার্চে জুমার নামাজ চলার সময় ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে ৫১ জন মুসুল্লিকে হত্যা করেন, আহত হন আরও ৪০ জন। এটি নিউ জিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা। 

হামলায় তিনি সামরিক ধরণের আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করেন আর মাথায় লাগানো ক্যামেরার মাধ্যমে ফেইসবুকে নির্বিচার হত্যার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেন।   

এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ৫১টি খুন, ৪০টি খুনের চেষ্টা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের একটি অভিযোগ আনা হয়। ট্যারান্ট প্রথমে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু কারা হেফাজতে থাকার এক বছর পর তিনি সব দোষ স্বীকার করে নেন আর তাতে বিচার প্রক্রিয়ায় না গিয়ে তাকে সরাসরি প্যারোলবিহীন আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়।  

নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্যারান্ট আদালতকে বলেছেন, তিনি যখন বিচারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তখন কারাগারের কঠোর পরিবেশে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছিল আর তাই তখন মূলত মানসিকভাবে দোষ স্বীকার করার মতো সুস্থ ছিলেন না।    

“ওই সময় সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক অবস্থা বা মানসিক সুস্থতা আমার ছিল না,” বলেছেন তিনি। 

দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্তটি ‘স্বেচ্ছায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না’ বরং কারাগারের পরিবেশের কারণে ‘বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থায় অযৌক্তিকভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল’ বলে দাবি করেছেন তিনি।  

রয়টার্স জানায়, আদালতের নির্দেশে ট্যারান্টের পক্ষের আইনজীবীদের নাম, পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, তাই মন্তব্য নেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

আদালতের একটি নথিতে দেখা গেছে, আপিল আদালত পরীক্ষা করে দেখবে যে দোষ স্বীকার করার সময় ‘কারাবাসের পরিস্থিতির কারণে’ ট্যারান্ট যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম ছিলেন কি না, যাকে তিনি ‘অমানবিক ও নির্যাতনমূলক’ বলে দাবি করেছেন। 

ট্যারান্ট বর্তমানে প্যারোলবিহীন আজীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এই দণ্ডের ফলে তাকে আমৃত্যু কারাবাস করতে হবে। নিউ জিল্যান্ডের কোনো আদালতের দেওয়া এ ধরনের প্রথম শাস্তি এটি। 

পাঁচ দিনের জন্য নির্ধারিত হওয়া আপিল শুনানি সোমবার থেকে শুরু হয়েছে আর শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 

যদি আপিল আদালত তার আবেদন খারিজ করে তাহলে চলতি বছরের শেষ দিকে তার সাজার বিষয়ে আপিলের শুনানি বিবেচনা করা হবে। আর তার আবেদন মঞ্জুর করা হলে মামলাটি উচ্চ আদালতে পাঠিয়ৈ ট্যারান্টকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।  

ট্যারান্ট স্বাক্ষ্য দেওয়ার সময় ওয়েলিংটনের আদালতে হতাহতদের পরিবারের কিছু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। 

কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এ শুনানিকালে সেখানে ছিলেন রশিদ ওমর। ক্রাইস্টচার্চের গুলিবর্ষণের ওই ঘটনায় তার ছেলে তারিক নিহত হয়েছিলেন। 

নিউ জিল্যান্ডের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম টিভিএনজেডকে রশিদ বলেন, “এটি সত্যিই খুব বিরক্তিকর কারণ সে আমাদের সবার সঙ্গে খেলার চেষ্টা করছে আর এটি, এটি শুধু আমাদের সময় আর করদাতাদের অর্থের অপচয়। সে শুধু আমাদের সঙ্গে খেলতে চায়।”