কানাডার ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড দেওয়ায় চীনের নিন্দায় ট্রুডো
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কানাডার ব্যবসায়ী মাইকেল স্পেভরকে চীন কারাদণ্ড দেওয়ায় এর নিন্দা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।
স্পেভরের এই দণ্ড ‘একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না’ উল্লেখ করে ট্রুডো অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ওদিকে, চীনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও কানাডার এই ব্যবসায়ীর কারাদণ্ডের ঘটনায় এক বিবৃতিতে চীনের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, “মানুষ নিয়ে দরকষাকষি করে উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে চীন।”
চীনের ডানডংয়ের অন্তর্বর্তী আদালত বুধবার স্পাভরের গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১১ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করে।
কানাডায় আটক চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়াংঝৌর পক্ষে থাকা আইনজীবীরা যখন তাকে যুক্তরাষ্ট্রে না পাঠাতে কানাডার আদালতকে রাজি করানোর শেষ চেষ্টা করছেন, তখনই চীন স্পেভরের মামলায় এই রায় শোনাল।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ভ্যাঙ্কুবারে বিমান বদলানোর সময় কানাডীয় কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হন চীনের নাগরিক মেং। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরান নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বহুজাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রতারিত করার অভিযোগ আছে।
মেংকে গ্রেপ্তারের পরপরই চীন কানাডার তিন নাগরিক, সাবেক কূটনীতিক মাইকেল কভরিগ, ব্যবসায়ী স্পেভর ও শিক্ষক সারাহ ম্যাকাইভারকে আটক করে। পরে শেষের জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এসব আটকের মাধ্যমে চীন ‘জিম্মি কূটনীতি’ করছে বলে অটোয়া অভিযোগ করলেও বেইজিং বলেছে, স্পেভর ও কভরিগকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে হুয়াওয়ে সিএফওর গ্রেপ্তারকাণ্ডের কোনো সংযোগ নেই।
স্পেভরের মামলাটি চলতি বছরের মার্চে আদালতে ওঠে, সেদিনই বিচার শেষ হয়ে গেলেও রায় ঘোষণা হয়েছে বুধবার। কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো এর নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, “স্পাভরকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং সাজা দেওয়া অন্যায়। এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি বলেন, “স্পাভরকে আড়াই বছরেরও বেশি সময় ইচ্ছাকৃতভাবে আটক রাখার পর তার বিরুদ্ধে মামলার রায় হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং বিচারে আন্তর্জাতিক আইনের নূন্যতম মানদণ্ডও বজায় রাখা হয়নি।”
