আলাস্কা বৈঠক নিয়ে কিইভের বাসিন্দাদের ভাবনা কী?
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ছাড়া আলাস্কায় বৈঠক হলে যুদ্ধের বাস্তবতার কোনও পরিবর্তন ঘটবে না বলে মনে করে কিইভের বাসিন্দারা।
ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠক বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে।
কিন্তু ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভে যেখানে মানুষ তিনবছর ধরে বিমান হামলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সময়ে সময়ে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, কখনও পরিত্যাক্ত হওয়ার হুমকিও পেয়েছে- সেখানে ট্রাম্প-পুতিনের এই বৈঠক নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ কিংবা আস্থার কথা তেমন কেউ বলেনি।
কিইভের আইটি কর্মী এক বাসিন্দা বলেন, “আমি মনে করি না যে এই বৈঠক নতুন কোনও ফল বয়ে আনবে কিংবা কোনও সমাধান আসবে। পরিস্থিতি যেমন চলছে তেমনই চলবে।”
কিইভের বাসিন্দারা মনে করেন, ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ছাড়া অনুষ্ঠিত হতে চলা আলাস্কার বৈঠক কেবলমাত্র দূর প্রান্তে হওয়া আরেকটি রাজনৈতিক ঘটনা। এতে যুদ্ধের বাস্তবতার কোনও পরিবর্তন ঘটবে না।
কিইভের এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, বৈঠক নিয়ে তার যথেষ্ট সংশয় আছে। তাছাড়া, যুদ্ধের সমস্যার ব্যাপারে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টকে ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়াও পুরোপুরি ভুল বলে মনে করেন তিনি।
রাশিয়া গত কয়েকদিনে ইউক্রেইনে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে অগ্রগতি করেছে, এমন খবরের মাঝে কিইভের অনেকেই উদ্বিগ্ন যে, ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার ফলে ইউক্রেইনের মনোবল আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কিইভের বাসিন্দা ক্যাটেরিনা ডুবোভিক বলেন, “সম্মুখভাগ দুর্বল। ফলে আমি মনে করি, যদি নতুন কোনও আল্টিমেটাম আসে তাতে আমাদের অবস্থান আরও দুর্বল হবে।
“যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন বড় ধরনের অহ্রহতি হত, তখন মানুষজনকে অনেক সক্রিয় মনে হত। কিন্তু এখন অপেক্ষা করা আর পর্যবেকক্ষণ করাটাই ঘটছে বেশি। হতাশাও বেড়েছে।”
কিইভের বাসিন্দাদের কেউ কেউ আবার বলেছেন, ট্রাম্পকে তারা বিশ্বাস করেন না। ট্রাম্পের ওপর তাদের আস্থাও নেই। কারণ, তিনি আজ একথা বলেন, তো কাল অন্য কথা বলেন।
এক বাসিন্দা বলেছেন, তার ধারণা- বৈঠকের ফল ইতিবাচক হবে না। একই সুরে আরেকজন বলেন, আলোচনায় তিনি কোনও অগ্রগতি আশা করছেন না।
আরেক বাসিন্দা বলেন, “বৈঠকের ফলে যুদ্ধের কোনও সমাধান হবে না। ইউক্রেইন কেবলমাত্র অস্ত্র দিয়েই নিজেদের রক্ষা করতে পারবে... রাশিয়া এমন একটি দেশ যাদের সঙ্গে কেবল শক্তির ভাষাতেই কথা বলা যায়। তারা সেচ্ছ্বায় কিছু দেবে না।”
