১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউক্রেইন ও গাজা নিয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ‘যাত্রীর আসনে’ ট্রাম্প

তিনি ক্রমবর্ধমানভাবে তার নিজের মনোযোগ অপরাধ, তার কথিত সহিংস বামপন্থি চরমপন্থার মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর দিকে সরিয়ে নিয়েছেন।

ইউক্রেইন ও গাজা নিয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ‘যাত্রীর আসনে’ ট্রাম্প
হোয়াইট হাউজের ভেতরে বাগানে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Sep 2025, 01:00 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:20 PM

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা অগাস্টের শেষ দিকে একদল ইউরোপীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বসে কঠোর একটি বার্তা দিলেন: যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সীমান্তবর্তী নেটো সদস্য দেশ লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়ার কিছু নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

এই বিষয়ে সরাসরি জ্ঞাত এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আরও বিস্তৃতভাবে পেন্টাগন কর্মকর্তা ডেভিড বেকার ওই দলটিকে বললেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে ইউরোপের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের উপর কম নির্ভরশীল হওয়া। মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজ দেশের নিরাপত্তার মতো অন্য অগ্রাধিকারগুলোতে তাদের মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে। 

কিছু ইউরোপীয় কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব পদক্ষেপ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সাহসী করে তুলতে পারে।  

শুক্রবার সম্ভবত তাদের উদ্বেগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। 

এদিন রাশিয়ার মিগ-৩১ জঙ্গিবিমান প্রায় ১০ মিনিট ধরে এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেটো সদস্য দেশটি অভিযোগ করেছে। এস্তোনিয়া জানিয়েছে, ইতালিয়ান বিমান বাহিনীর এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সেদিকে ছুটে যাওয়ার পর রাশিয়ার বিমানগুলো সরে যায়। 

রাশিয়া এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তাদের জঙ্গিবিমানগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমার উপর দিয়ে উড়ে গেছে। 

এর কয়েক ঘণ্টা পর রাশিয়ার জঙ্গিবিমানগুলো পোল্যান্ডের একটি তেল প্ল্যাটফর্মের উপর দিয়ে উড়ে যায়। এর আগের সপ্তাহেই পোল্যান্ডে রাশিয়ার ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছিল। 

এখন পর্যন্ত এসব ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় নিঃশব্দই আছে। সর্বশেষ অনুপ্রবেশের পর কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ট্রাম্প এ নিয়ে কিছু বলেননি, তারপর বলেছেন, “বড় সমস্যা।” 

পোল্যান্ডে ড্রোন ঘটনা নিয়ে নিজের ট্রুথ সোশ্যালে করা পোস্টে তিনি বলেছেন, “আমরা শুরু করছি!”  

রয়টার্স লিখেছে, তার প্রতিক্রিয়াগুলো একটি উদীয়মান ছকের সঙ্গে খাপ খায় বলে মনে হচ্ছে।  

বিশ্বের সবচেয়ে জটিল দ্বন্দ্বগুলো সমাধান বা মধ্যস্থতা করতে পারবেন বলে কয়েক মাস ধরে উভয় ধারণা প্রস্তাব করার পর, সম্প্রতি ট্রাম্প কূটনীতি থেকে নিজেকে প্রায় সরিয়ে নিয়েছেন। তার বদলে তিনি মিত্রদের এসব সমস্য সমাধানের কূটনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আর কিছু ক্ষেত্রে চাপও দিয়েছেন, এ সময় শুধু দূরবর্তী মার্কিন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

তিনি ক্রমবর্ধমানভাবে তার নিজের মনোযোগ অপরাধ, তার কথিত সহিংস বামপন্থি চরমপন্থার মুখোমুখি হওয়া এবং একটি প্রধান ভিসা কর্মসূচীর সংস্কারের মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর দিকে সরিয়ে নিয়েছেন। 

আলাস্কায় পুতিনকে আতিথেয়তা দেওয়াসহ কূটনীতিতে অতি ব্যস্ত একটি গ্রীষ্ম পার করার পর ট্রাম্প ইউরোপীয়দের বলেন, তারা যদি আশা করে ওয়াশিংটন ইউক্রেইন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কোর ওপর আর্থিক চাপ আরও শক্ত করবে তবে রাশিয়ার তেলের ক্রেতাদের ওপর অবশ্যই তাদের শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার মেয়াদের প্রথম কয়েক মাস ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার চেষ্টায় ব্যয় করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি গাজা যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি চুক্তির সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিতে পারে ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপগুলিকে অতি সহজে এড়িয়ে গেছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতারের ভূখণ্ডে হামাসের দপ্তরে ইসরায়েল বোমাবর্ষণ করার পর হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা প্রতিবাদ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ইসরায়েল গাজা সিটিতে বিতর্কিত সামরিক অভিযান শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় ও আরব মিত্ররা নিন্দা করলেও ট্রাম্প কোনো আপত্তি জানাননি। যা শান্তি আলোচনাকে ধূলিস্যাৎ করে দিতে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।  

যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের সংঘাত থেকে দূরে রাখার বিষয়ে ট্রাম্প সতর্ক থাকবেন এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ দুই বছর ধরে প্রচারণার সময় তিনি বারবার বলেছেন, জাতি সামরিকভাবে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ছিল। রাজনৈতিক বিরোধিরা তাকে ‘আইসোলেশনিস্ট’ বলেছিল।   

কিন্তু গ্রীষ্মে এক পরিবর্তিত ট্রাম্প হাজির হন। তিনি জুনে ইসরায়েলের যুদ্ধের সমর্থনে ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমাবর্ষণ করেন। ওই মাসের শেষের দিকে নেদার‌ল্যান্ডসে নেটোর এক সম্মেলনে তিনি ইঙ্গিত দেন ইউক্রেইনের নতুন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষার পদ্ধতি পাঠাবেন। জুলাইয়ে মস্কোকে লক্ষ্যস্থল করে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক তীব্র করে তুলবেন বলে হুমকি দেন। 

কিন্তু এখন বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প ফের নিজের ছকে ফিরে আসছেন। 

অভিজ্ঞা মার্কিন কূটনীতিক ও কার্নেগি এন্ডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস এর জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ট্রাম্প সম্ভবত অনুভব করেছেন যে তিনি যেমনটা কল্পনা করেছিলেন ওই সংঘাতগুলো তারচেয়ে আরও অনেক বেশি জটিল।

মিলার বলেন, “প্রচেষ্টা ও রাজনৈতিক পুঁজির ব্যয় প্রতিদানের যোগ্য, এমনটি না দেখলে তিনি কিছু করতে আগ্রহী হন না।”