পাতায়ায় মদ্যপ অবস্থায় মারামারি, আব্রাহাম লিংকনের ২ নাবিককে রণতরীতে ফেরত
ইরান যুদ্ধের আগে থেকে শুরু করে টানা ২৮৬ দিন সাগরে কাটানোর পর স্থলে নেমে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন তারা।
থাইল্যান্ডের বিনোদন কেন্দ্র পাতায়ায় নোঙর ফেলা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের’ দুই সেনাসদস্য মদ্যপ অবস্থায় নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার পর তাদের দুজনকে দ্রুত যুদ্ধজাহাজটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের আগে থেকে শুরু করে টানা ২৮৬ দিন সাগরে কাটানোর পর স্থলে নেমে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন তারা।
স্থানীয় পুলিশের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এমএস নাও জানায়, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে পাতায়ার একটি বারের কাছে দুই মার্কিন নাবিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে থাই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে শহরের হার্ড রক ক্যাফেতে অবস্থিত ইউএস-থাইল্যান্ড যৌথ অপারেশন সেন্টারে নিয়ে যায়।
পরে সেখান থেকে তাদের নিজ রণতরীতে ফেরত পাঠানো হয়। থাইল্যান্ডের এক কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ‘সামান্য’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, দুজনই অতিরিক্ত মদ্যপ ছিলেন এবং মারামারি যাতে আর না বাড়ে, সেজন্য স্থানীয় এক বাসিন্দা জরুরি নম্বরে কল দিয়ে পুলিশকে জানান।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখছে, মারামারি করায় পাঁচ দিনের পাতায়া সফরের বাকি সময়টায় ‘সিন সিটি’ নামে পরিচিত শহরটিতে তাদের আর নামতে দেওয়া হবে না; দুই নাবিককে জাহাজেই অবস্থান করতে হবে।
গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা নিমিৎজ শ্রেণির এই রণতরী প্রায় নয় মাস সাগরে কাটানোর পর গত বুধবার পাতায়ায় নোঙর ফেলে। মে মাসে এর মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ইরান যুদ্ধের কারণে তা দীর্ঘায়িত হয়।
টানা সমুদ্রে থাকার ক্ষেত্রে জাহাজটি আধুনিক সময়ের একটি রেকর্ড তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘ এই যাত্রায় জাহাজটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জাহাজে জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগজনক খবর আসে।
চলতি মাসে সামরিক বিষয়ক দুটি সংবাদমাধ্যম জাহাজটিতে আত্মহত্যার চেষ্টা এবং নাবিকদের মনোবল হ্রাস পাওয়ার খবর প্রকাশ করে।
তবে রণতরীর ভেতরের নাজুক পরিস্থিতি বিষয়ক খবরগুলোকে ‘পুরোপুরি বিকৃতভাবে উপস্থাপন’ করা বলে দাবি করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
গত মাসে তিনি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নাবিকরা যেভাবে টানা দায়িত্ব পালন করেছেন তা ‘প্রশংসনীয়’।
এদিকে পাতায়ায় পাঁচ দিনের এই সফরে বাকি সেনাসদস্যদের তীরে নামার অনুমতি দেওয়া হলেও তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, সেনাসদস্যদের মার্কিন আইন, নৌবাহিনীর নিয়ম এবং থাইল্যান্ডের স্থানীয় আইন মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাহাজ থেকে নামার সময় রণতরীটির কমান্ডিং অফিসারকে মাইকে বলতে শোনা যায়, “বাইরে মার্জিত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার দিকে সবাই খেয়াল রাখবেন।”
আরও পড়ুন:
