থাইল্যান্ডে গিয়ে শপিংয়ে ব্যস্ত হলেন আব্রাহাম লিংকনের মার্কিন নাবিকরা
সমুদ্রে ২৫০ দিন ধরে বিমানবাহী রণতরীতে বন্দি জীবন কাটানোর পর সাধারণ জীবনের স্বাদ পেতেই যেন কেনাকাটাকে বেছে নিয়েছেন এই নাবিকরা।
রেকর্ড আড়াইশ দিন সমুদ্রে কাটানোর পর থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী পাতায়ায় পা রেখেছেন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ৫ হাজার নাবিক। কিন্তু সেখানে তারা পানশালার মতো প্রমোদালয়ে ছুটে না গিয়ে বরং শপিং মলে কেনাকাটাতেই মেতেছেন।
বৃহস্পতিবার বিবিসি জানায়, আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের থাকার জন্য পাতায়ার দুটি সমুদ্রতীরবর্তী হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর একটি হার্ড রক হোটেলে কেনাকাটা করা জিনিসপত্র হাতে নিয়ে নাবিকদের ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।
দীর্ঘ ২৫০ দিন ধরে যুদ্ধজাহাজের আবদ্ধ ও কঠিন পরিবেশে কাটানোর পর, সাধারণ মানুষের মতো কোনও শপিং মলে ঘুরতে যাওয়ার যে স্বাভাবিক আনন্দ, সেটিই হয়ত নাবিকদের মানসিক শান্তির জন্য দরকার ছিল।
সামরিক কায়দার চুল ছাঁটা, গোঁফ ও নেভি ব্লু রঙের টি-শার্টের কারণে হাওয়াই চটি এবং সমুদ্রসৈকতের পোশাক পরা পাতায়ার সাধারণ মানুষের ভিড়ের মধ্যে মার্কিন এই নাবিকদেরকে আলাদাভাবেই চোখে পড়ছিল।
তবে রাত হলেই এই রিসোর্ট শহরটি তার আসল রূপে ফিরে আসে, যেখানে দেখা যায় নিয়ন আলো, উচ্চ শব্দ আর নানা ধরনের বার-রেস্তোরাঁয় মুখর হয়ে ওঠে শহরটি।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে পাতায়ার পর্যটন ব্যবসায় মন্দা চলছে। সংঘাত এলাকায় দায়িত্ব পালন শেষ করে আসা মার্কিন নাবিকদের কাছ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাই বাড়তি আয়ের প্রত্যাশা করছেন।
বুধবার রাতে পাতায়ার বিখ্যাত 'ওয়াকিং স্ট্রিট' নাবিকদের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত ছিল। সেখানকার প্রবেশদ্বারে নাবিকদের স্বাগত জানিয়ে বিশাল আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। সমুদ্রে থাকার সময় ৯ মাসের বেতন খরচ করার সুযোগ না পাওয়ায় নাবিকদের হাতে প্রচুর অর্থ রয়েছে বলেই মনে করছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তবে থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় যৌনকর্মীদের থেকে দূরে থাকার বিষয়ে নাবিকদের সতর্ক করা হয়েছে। যদিও অ্যালকোহল পানের ক্ষেত্রে কোনও বাধা দেখা যায়নি।
মধ্যরাতের মধ্যে তরুণ নাবিকদের কেউ কেউ এতটাই মাতাল হয়ে পড়েছিলেন যে তাদের একে অপরকে ধরে খাড়া হয়ে থাকতে হচ্ছিল। কেউ কেউ আবার লাল আলোয় আলোকিত গো-গো বারে ঢোকেন। সেখানে পোল ড্যান্সারদের নাচ চলছিল।
এক নাবিক বলেন, ৯ মাস সমুদ্রে থাকার পর তিনি সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছেন। রণতরীতে জীবন একঘেঁয়ে হয়ে উঠেছিল। হাজারো মানুষের সঙ্গে একই জাহাজে থাকায় জায়গাটি বড় হলেও সবসময় ছোট মনে হত। ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরতে কত সময় লাগবে জানতে চাইলে ছোট্ট করে তিনি বলেন, ‘অনেক দেরি।’
প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চূড়ান্তভাবে রওনা দেওয়ার আগে থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে প্রথম যাত্রাবিরতি করেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন। ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তরীটির নাবিকরা থাইল্যান্ডের পাতায়াসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ঘুরে নিজেদের সতেজ করার সুযোগ পাবেন।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো বন্দর থেকে যাত্রা করে। পরে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য এটিকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয়।
টানা সমুদ্রে থাকার ক্ষেত্রে রণতরীটি আধুনিক সময়ে এক রেকর্ড তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘ এই যাত্রায় রণতরীর নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জাহাজে জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগের খবর এসেছে।
গত মাসে সামরিক বিষয়ক দুটি সংবাদমাধ্যম জাহাজটিতে আত্মহত্যার চেষ্টা এবং নাবিকদের মনোবল কমে যাওয়ার খবর প্রকাশ করে।
