ফ্লোটিলার ১৭১ জনকে ফেরত পাঠাল ইসরায়েল, আটকাবস্থায় অমানবিক আচরণের অভিযোগ কর্মীদের
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে ইসরায়েলের আটক করা জলবায়ুকর্মী থুনবার্গসহ ১৭১ জনকে ইউরোপে পাঠানো হয়েছে। অনেক কর্মীই আটকাবস্থায় অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
গাজাগামী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নৌবহর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া মানবাধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ১৭১ জনকে সোমবার ইউরোপের দেশ গ্রিস ও স্লোভাকিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক থাকার সময় অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এই মানবাধিকর্মীদের অনেকেই। সুইজারল্যান্ড ও স্পেনের কয়েকজন কর্মীর অভিযোগ, আটকাবস্থায় তারা অমানবিক পরিস্থিতিতে ছিলেন।
গত সপ্তাহে আটক হওয়া নয়জন সুইস কর্মী দেশে ফেরার পর জানান, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ঘুমাতে দেয়নি, পর্যাপ্ত খাবার-পানি দেয়নি, এমনকি কেউ কেউ মারধরেরও শিকার হয়েছেন। কাউকে লাথি মারা হয়েছে, আবার কেউ খাঁচায় বন্দি ছিলেন বলে জানিয়েছে তাদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠন।
রোববার রাতে নিজ দেশে ফিরে স্প্যানিশ কর্মীরাও অভিযোগ করেছেন, তাদেরও নির্যাতন করা হয়েছে। “ওরা আমাদের মারধর করেছে, মাটির ওপর দিয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে, চোখ বেঁধেছে, হাত-পা বেঁধে জেলের ভেতর রেখেছে এবং গালাগাল করেছে,” মাদ্রিদের বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন আইনজীবী রাফায়েল বোরেগো।
শনিবার সুইডিশ কর্মীরা দাবি করেন, জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকেও ধাক্কা দিয়ে ইসরায়েলি পতাকা পরতে বাধ্য করা হয়েছে। অন্যরা জানান, তাদের খাবার, পানি, ওষুধ এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী কেড়ে নেওয়া হয়।
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইসরায়েল সোমবার থুনবার্গসহ ১৭১ জন আটক ফ্লোটিল্লা কর্মীকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে।
তারা গ্রিস, ইতালি, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, পোল্যান্ড, জার্মানি, বুলগেরিয়া, লিথুয়ানিয়া, অস্ট্রিয়া, লুক্সেমবার্গ, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, স্লোভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, সার্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলের বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন জানান, আরও ৩০৯ জন ফ্লোটিল্লা কর্মী আটক আছেন। এদের মধ্যে ২০০ জনকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত পাঠানো হবে।
ইসরায়েলের দাবি: ‘সব অভিযোগ মিথ্যা’
ইসরায়েল আটক মানবাধিকার কর্মীদের অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, “সব আটক কর্মীকেই পানি, খাবার ও শৌচাগারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের আইনি অধিকার পুরোপুরি বজায় রাখা হয়েছে এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।”
রোববার তেল আবিবে অবস্থিত সুইস দূতাবাস জানায়, তারা কারাগারে থাকা ১০ জন সুইস নাগরিকের সঙ্গে দেখা করেছে। “পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা তুলনামূলক ভাল আছেন বলে জানানো হয় দূতাবাসের বিবৃতিতে।
ফ্লোটিলায় থাকা বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কোলাও বলেন, “আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিন যে নির্যাতন সহ্য করতে হয়, তার তুলনায় এটি কিছুই নয়।”
স্প্যানিশ সাংবাদিক কার্লোস দে ব্যারন ও নেস্টর প্রিয়েতো অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের হয়ে হিব্রু ভাষায় লেখা নথিতে স্বাক্ষর করেছে, যেখানে বলা হয়েছে তারা অবৈধভাবে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে।
“আমাদের অনুবাদকের সুযোগ দেওয়া হয়নি, স্পেনের কনসালকেও আশদোদ বন্দরে ঢুকতে দেয়নি,” বলেন প্রিয়েতো।
বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার কর্মকর্তারা আটক কর্মীদের সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন বলে জানানো হয়েছে। সোমবার আরও কিছু কর্মীকে এথেন্সে পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
