২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানকে সহায়তা করবে তালেবান

ইরানের অনুরোধে আফগানিস্তানের জনগণ তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাবে এবং সহযোগিতাও করবে- বলেছেন আফগান তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানকে সহায়তা করবে তালেবান
জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Feb 2026, 11:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে সহযোগিতা করবে আফগানিস্তানের তালেবান। 

গত রোববার রেডিও ইরানের পশতু সার্ভিস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

মুজাহিদ স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যদি অনুরোধ করে তাহলে আফগানিস্তানের জনগণ তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাবে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে। 

তবে একইসঙ্গে তার ঘোষণা, এর অর্থ এই নয় যে, সুন্নি তালেবান গোষ্ঠী স্বঃপ্রণোদিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

তালেবান মুখপাত্র আরও জানান, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনও ধরনের সংঘাত চান না। বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিদ্যমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরই তারা জোর দিচ্ছেন।

ইরানের জয় দেখছে তালেবান:

গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে মুজাহিদ বলেন, তেহরান ওই লড়াইয়ে ‘জয়ী’ হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় হামলা চালায় তবে ইরান ‘আবারও জয়ী’ হবে।

তালেবান মুখপাত্রের মতে, ইরানের সেই সক্ষমতা রয়েছে এবং আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। উল্লেখ্য, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল তালেবান।

মতাদর্শগত বিরোধ ও সাম্প্রতিক সহযোগিতা:

‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’ পত্রিকা জানায়, শিয়া ও সুন্নি মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে ইরান ও তালেবানের মধ্যে ঐতিহাসিক উত্তেজনা থাকলেও, ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

গত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সফর করে। সে সময় তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে তাদের পানি সম্পদ, আফগান শরণার্থী এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। 

ইরানে গত ২৫ বছর ধরে পালিয়ে যাওয়া লাখ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে এই শরণার্থীদের মধ্যে কাউকে কাউকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে তেহরান।