২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

২৫ বছর আলোচনার পর ইইউ-মার্কোসুর ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি

দুই অঞ্চলের মধ্যে সই হওয়া এই চুক্তিতে এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এবং মার্কোসুর সদস্য দেশগুলোর আইনসভার অনুমোদন প্রয়োজন।

২৫ বছর আলোচনার পর ইইউ-মার্কোসুর ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকা ব্লকের প্রতিনিধিরা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Jan 2026, 09:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:35 PM

দীর্ঘ ২৫ বছরের আলোচনার পর অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মার্কোসুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করল। শনিবার প্যারাগুয়েতে এই চুক্তি সই হয়। 

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, ইউরোপীয় কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্টা এবং মার্কোসুরভুক্ত দেশ আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের  প্রেসিডেন্ট এবং ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে স্বাক্ষর করেন।

এর মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তির পথ প্রশস্ত হল। 

দুই অঞ্চলের মধ্যে শুল্ক কমানো এবং বাণিজ্য বাড়ানো নিয়ে করা এই চুক্তিতে এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। একইসঙ্গে এতে মার্কোসুর সদস্য দেশগুলোর আইনসভার অনুমোদন প্রয়োজন।

চুক্তিটি এর আগে গত সপ্তাহে ইউরোপীয় দেশগুলোর সবুজ সংকেত পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি সই হলেও ইউরোপের ভেতরে বিশেষ করে কৃষকেরা এর বিরোধিতা করছে। 

তাছাড়া, আমাজনের বন উজাড় করে উৎপাদিত পণ্য ইউরোপে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পরিবেশবাদীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তবে ভন ডার লিয়েন বলেছেন, চুক্তিটি বিশ্বে সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন, “এই চুক্তি বিশ্বে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে। আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদের বদলে দীর্ঘমেয়াদী ও ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব এবং শুল্কের বদলে সুষ্ঠু বাণিজ্যকে বেছে নিয়েছি।”

এই চুক্তি সই হওয়ার দিনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপের ৮টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা বলেছেন, “বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই টালমাটাল হয়ে ওঠার এই সময়ে চুক্তি আমাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং নিজেদের মূল্যবোধ রক্ষায় সহায়ক হবে।”