Published : 04 Aug 2026, 07:32 PM
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তন করে ‘রিপাবলিক অব নাওয়েরো’ করেছে।
ঔপনিবেশিক অতীত কাটিয়ে জাতীয় ভাষায় সঠিক বানান ও উচ্চারণকে স্বীকৃতি দিয়ে জাতির পরিচয়কে ফুটিয়ে তুলতে এই নতুন নামকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং।
নাম পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির কোড ‘এনআরইউ’ এর পরিবর্তে ‘এনআরও’ হবে এবং দেশটির নাগরিকরা ‘নাউরুয়ান’-এর বদলে ‘দেই-নাওয়েরো’ নামে পরিচিত হবে।
এতদিন আন্তর্জাতিকভাবে দেশটির নাম ‘নাউরু’ (নাউ-রু) ব্যবহার হলেও এখন তা বদলে হবে ‘নাওয়েরো’ (নাও-এরো)। দেশটির সরকারের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপের ফলে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশটি তার ঐতিহ্যবাহী নামে ফিরছে।
আগের একটি সরকারি বিবৃতিতে থেকে জানা যায়, বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধার্থেই দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে 'নাউরু' নামে পরিচিতি পেয়েছিল। কারণ, দেশটির স্থানীয় নাম বিদেশিদের জন্য উচ্চারণ করা কঠিন ছিল। ফলে নাউরু নামটি ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে নেওয়া ছিল না, বরং সেটি ছিল সাময়িক মানিয়ে নেওয়ার বিষয়।
দেশটির প্রেসিডেন্ট আদিয়াং চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, এর উদ্দেশ্য মূলত জাতির পরিচয়, ঐতিহ্য, পূর্বপুরুষদের স্মৃতি রক্ষা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টা।
এরপর সংবিধান সংশোধনের এ প্রস্তাবটি আইনপ্রণেতাদের দুই দফার ভোটে পাস হয়েছে। যদিও দেশটির সংবিধানে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনই চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট জানা যায়নি।
মাত্র ১২,০০০ মানুষের এই দেশটি জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। টুভালু এবং ভ্যাটিকান সিটির পরই এর অবস্থান।
ছোট প্রবাল চুনাপাথরের এই দ্বীপদেশটি একসময় জার্মানির উপনিবেশ ছিল। পরে ১৯৬৮ সালে একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার আগে এটি অস্ট্রেলিয়ার শাসনাধীনে ছিল।
ফসফেট খনির কারণে একসময় সমৃদ্ধ হলেও খনিজসম্পদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ১৯৯০-এর দশকে দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে নাওয়েরো।
নাগরিক ও অবকাঠামো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে পুনর্বাসন তহবিল জোগানোর জন্য দেশটির সরকার এখন প্রবাসীদেরকে 'অর্থের বিনিময়ে নাগরিকত্ব' দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগ খুঁজছে।
প্রেসিডেন্ট আদিয়াং তার সর্বসাম্প্রতিক ঘোষণায় বলেছেন, দেশের নাম পরিবর্তন তাদের পুনরুজ্জীবিত জাতীয় গৌরবের সূচনাই নির্দেশ করছে। গত মে মাসে তার সরকার যখন এ পদক্ষেপের পক্ষে ভোট দেয়, তখন দেশের নাম পরিবর্তন চূড়ান্ত করতে একটি গণভোটের কথাও
ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
তবে গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, দীর্ঘ আলোচনার পর আইনপ্রণেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, এ বিষয়ে কোনও গণভোট করার প্রয়োজন নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যদিও জনগণের ইচ্ছা জানাটাই গণভোট আয়োজনের উদ্দেশ্য, তবে 'নাওয়েরো' নামটি কখনই হারিয়ে যায়নি; বরং এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। এই নাম ইতিমধ্যেই দেশের জনগণের নিজস্ব পরিচয়, জাতীয় প্রতীকে রয়েছে, সমাজে প্রচলিত আছে; এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- এটি সংবিধান স্বীকৃত।”
ঔপনিবেশিক অতীতের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ হিসেবে নাউরু সর্বসম্প্রতি তাদের নাম বদলাল।
এর আগে ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড নিজেদের নাম পরিবর্তন করে এসোয়াতিনি করে এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিকভাবে ‘তুর্কিয়ে’ নাম ডাকা শুরু করার জন্য জাতিসংঘকে অনুরোধ জানায়।