Published : 25 Aug 2026, 04:10 PM
হাইতির রাজধানী পর্তোপ্রাঁসের একটি আবাসিক এলাকায় রাতে অপরাধী দলের সংঘবদ্ধ হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত ও আরও ২২ জন আহত হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
হাইতিতে জাতিসংঘের দপ্তর সোমবার বলেছে, হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত কেনসকফে স্থানীয় সময় রোববার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নগরীর এ এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
অপরাধী দলগুলো গত বছর থেকে এই এলাকাটিতে বহু হামলা চালিয়েছে, এতে হাজার হাজার বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
কয়েক বছর ধরে শক্তিশালী অপরাধী দলগুলোর এক বিস্তৃত জোট হাইতির রাজধানী ও সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে প্রভাব জারি করে রেখেছে। বিদেশি রাষ্ট্রগুলো অস্ত্রশস্ত্রে পিছিয়ে থাকা হাইতির পুলিশকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিলেও তাতে কাজ হয়নি।
হাইতির অধিকার গোষ্ঠী আরএনডিডিএইচের হিসাব অনুযায়ী রাত প্রায় সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত এবং ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছে।
হাইতির সরকার এই জঘন্য হামলার নিন্দা জানিয়েছে আর নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারের এ প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কেনসকফের বাসিন্দারা স্থানীয় পুলিশ প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, থানা থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে লোকজন খুন হয়েছে, তাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলেছে, “কেনসকফকে অরক্ষিত রাখা হবে না। কোনো দ্বিধা ছাড়াই অবিলম্বে সেখানে সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।”
২০২৫ সালে কেনসকফে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে হামলা চালিয়েছিল অপরাধী গোষ্ঠীগুলো। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, তখন ২৬০ জনের বেশি নিহত ও দুই শতাধিক বাড়ি ধ্বংস হয় বা সেগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, পালিয়ে যায় প্রায় তিন হাজার মানুষ।
তারপর থেকে এলাকাটিতে প্রায় এক ডজনের মতো হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও গবাদিপশু লুটের মতো ঘটনাও ঘটেছে।