০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্প-মাস্ক প্রকাশ্য বিবাদের পর শুক্রবার ফোনালাপের সম্ভাবনা

হোয়াইট হাউজের নির্ধারিত এই ফোনোলাপের মাধ্যমে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রয়টার্স

Published : 06 Jun 2025, 07:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:09 PM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের প্রকাশ্য বিবাদের পর শুক্রবার তাদের মধ্যে ফোনালাপ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউজ থেকে ট্রাম্পের সহযোগীরা দুইজনের মধ্যে এই ফোনালাপের ব্যবস্থা করেছেন বলে জানিয়েছে পলিটিকো পত্রিকা।

ইলন মাস্ক গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিগ বিউটিফুল কর ও ব্যয় বিলকে ‘জঘন্য’ বলে সমালোচনা করে প্রশাসনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার তারা প্রকাশ্যেই একে অপরের সঙ্গে বিবাদে জড়ান।

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ‘বন্ধু’ ইলন মাস্ককে অনেক সাহায্য করেছেন। তার পরেই মাস্ক পাল্টা দাবি করেন যে, তিনি সাহায্য না করলে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রেরৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততেই পারতেন না।

কিন্তু এখানেই শেষ নয় দুইজনের লড়াই ক্রমশই তীব্র হচ্ছে। ট্রাম্প নতুন আঘাত হানার ইঙ্গিত দিয়েছেন টেসলা কোম্পানির সিইও মাস্কের ওপর।

আর্থিক অবরোধের হুঁশিয়ারির পাশাপাশি সরকার থেকে যে ভর্তুকি পায় মাস্কের কোম্পানি টেসলা, তা-ও বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, মাস্কও থেমে নেই। তিনি বলেই চলেছেন, ট্রাম্পের নতুন কর ও ব্যয় বিল যুক্তরাষ্ট্রকে দেউলিয়া করে দিতে পারে। এমনকি, ট্রাম্পকে অভিশংসন করার প্রস্তাবও দিয়েছেন মাস্ক।

দুইজনের মধ্যে সংঘাতের এই নাটকীয় মোড় ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প ও মাস্কের তীব্র বাকযুদ্ধ প্রকাশ্যে এলে এর প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারেও।

ব্যবসায়ীরা মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ কোম্পানি টেসলার শেয়ার ছেড়ে দিতে শুরু করেন। এতে বৃহস্পতিবার দিন শেষ টেসলার দরের ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পতন ঘটে আর তাতে কোম্পানিটি ১৫ হাজার কোটি ডলার বাজার মূল্য হারায়।

এটি টেসলার ইতিহাসে একদিনে সবচেয়ে বড় দরপতন। এই আবহেই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে ফোনালাপ হতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউজের নির্ধারিত এই ফোনোলাপের মাধ্যমে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটতে পারে, যদিও দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের সংকট যে গভীর, তা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।