Published : 22 May 2026, 10:28 AM
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ হয়ে দেখা দিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ‘বেশি নয়’।
১৯৯৬ সালে দুটি বিমানকে গুলি করে ভূপাতিতের ঘটনায় ক্যারিবীয় দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক হত্যার অভিযোগ আনার একদিন পর তার এ মন্তব্য এল বলে জানিয়েছে বিবিসি। ওই বিমান ভূপাতিতের ঘটনায় একাধিক মার্কিন নাগরিক নিহত হন।
রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন ‘কূটনৈতিক সমাধানকে’ প্রাধান্য দিলেও দেশকে যে কোনো হুমকি থেকে রক্ষার অধিকার ও বাধ্যবাধকতা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেছেন, তার দেশ কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল না। তিনি রুবিওর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা বলারও’ অভিযোগ আনেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিউবার ক্ষেত্রে কূটনীতিকেই ওয়াশিংটন এখনও প্রাধান্য দিচ্ছে।
“আমি আপনাদের সত্য বলতে চাই। আপনারা জানেন, যাদের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হচ্ছে সেটা বিবেচনায় নিলে সেটাতে (কূটনীতি) সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়,” বলেছেন তিনি।
কিউবা ‘পুরো অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের অন্যতম নেতৃস্থানীয় পৃষ্ঠপোষক’ বলেও অভিযোগ করেন রুবিও; তার এ ভাষ্য জোরের সঙ্গে অস্বীকার করে এক্সে পোস্ট দিয়েছেন রদ্রিগেজ।
কিউবার এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সমালোচনা করে বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সামরিক আগ্রাসনে প্ররোচনা’ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মার্কিন সরকারই তার দেশের বিরুদ্ধে ‘নির্দয় ও পদ্ধতিগত’ হামলা করে যাচ্ছে বলেও পাল্টা অভিযোগ হানেন তিনি।
চলতি বছরের শুরু থেকে কিউবার ওপর মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটিতে তেল পাঠানো দেশগুলোর পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের অবসান চায়। হাভানাকে চুক্তিতে বাধ্য করতে তারা একের পর এক পদক্ষেপও নিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন তেল অবরোধের কারণে দ্বীপদেশটি কয়েক মাস ধরেই তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে। তীব্র হয়েছে লোডশেডিং, খাদ্য ঘাটতি। দেশটির অর্থনীতিও পড়েছে মারাত্মক চাপে।
এর মধ্যেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১০ কোটি ডলার ত্রাণ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন রুবিও।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনেককেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এ বছরের জানুয়ারিতেই মার্কিন সেনারা তাকে তার দেশ থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়।
ইরানে ‘সফল হতে না পারা’ ট্রাম্প এখন কিউবায়ও এমন কিছু করে নিজের সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।
তারা বলছেন, কিউবায় মাঝারি বা দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান আখেরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও দুর্বল করবে। সে কারণে তারা মাদুরোকে অপহরণের মতো আচমকা এবং খুবই অল্প সময়ের কোনো অভিযানের দিকেই ঝুঁকতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন আদৌ কাস্ত্রোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবে কিনা, কীভাবে করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, “তাকে কীভাবে আমরা এখানে আনবো সে বিষয়ে আমি কথা বলবো না। আমরা যদি তাকে এখানে আনার চেষ্টাই করি তাহলে কেন আমরা আমাদের পরিকল্পনা সম্বন্ধে গণমাধ্যমে বলবো?”
বুধবার মিয়ামিতে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘোষণা দেওয়া ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লানশ বলেছেন, “তিনি (রাউল) এখানে হাজির হবেন বলেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা, সেটা নিজের ইচ্ছায় হোক বা অন্য কোনো ভাবে।”
কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনার নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। কিউবার ক্ষেত্রে ‘জবরদস্তি’ ও ‘হুমকি দেওয়া’ বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। ক্রেমলিন বলেছে, হাভানার ওপর যে ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে তা ‘সহিংসতার কাছাকাছি’।
বৃহস্পতিবার রুবিও এক্সে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সামরিক বাহিনী পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বোন আদিস লাস্ত্রেস মোরেরাকে গ্রেপ্তার করেছে।
ফ্লোরিডায় বসবাসরত মোরেরা ‘হাভানার কমিউনিস্ট শাসকদের সহযোগিতা করে গেছে’ বলেও অভিযোগ রুবিওর। অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে আটক করেছেন, তার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হবে, বলেছেন নির্বাসিত কিউবান বাবা-মা’র সন্তান এ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, কিউবা একটি ‘ব্যর্থ দেশ’, তার প্রশাসন ‘মানবতার খাতিরে’ তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করছে।
কিউবান-আমেরিকানরা ‘তাদের দেশে ফিরতে’ এবং কিউবার সফলতায় সহায়তা করতে চায়, বলেছেন তিনি।
“অন্যান্য প্রেসিডেন্টরা কিছু করা যায় কিনা তা ৫০-৬০ বছর ধরে দেখে আসছেন, মনে হচ্ছে আমিই সেই প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছি যে কিছু করবে, সেটা করতে পারলে আমি খুশি হব,” বলেছেন ট্রাম্প।