২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ৭ দিনের ‘রোডম্যাপ’ দিল ইরান

আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা নিয়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ৭ দিনের ‘রোডম্যাপ’ দিল ইরান

আব্বাস আরাকচি। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Sep 2026, 06:09 PM

Updated : 25 Sep 2026, 06:50 PM

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌঅবরোধ তুলে নিতে ৭ দিনের এক ‘রোডম্যাপ’(পরিকল্পনা) প্রস্তাব করেছে ইরান।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে এই পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।

মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই এই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ প্রায় সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কড়াকড়ি আরোপ করায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবারহে ধস নেমেছে, যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতেতেও।

ইরানের নতুন প্রস্তাবে গত জুনে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সম্মত হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলী বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বৈরিতার অবসান এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা।

প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে করে যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু করা যায় এবং হরমুজ প্রণালি অবরোধের অবসান ঘটানো যায়।

তাছাড়া, গাজা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে আগামী সাত দিনের মধ্যে সামরিক সংঘাত সম্পূর্ণ বন্ধের শর্তও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের অন্তত ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করা, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ওয়াশিংটনের নৌঅবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

সাত দিন সময়সীমার শেষ দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর এর পরপরই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু করার কথাও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মতে যা ছিল এই যুদ্ধের মূল কারণ।

ইরানের নতুন এই প্রস্তাবটি গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে কাজগুলো শেষ করার জন্য যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করা বেশ কঠিন।

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন স্বাক্ষরিত আগের স্মারকটিতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাল্টাপাল্টি হামলা ও নথির অস্পষ্ট ভাষার জেরে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ভেস্তে যায়।

পরবর্তীতে ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওই সমঝোতা চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেন।

তবে সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগের প্রতিশ্রুতিতে ফিরে আসে তবে তেহরানও ‘অবিলম্বে সাড়া দেবে’।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছি।”

হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে তড়িঘড়ি করে ওয়াশিংটন কোনো চুক্তিতে সই করবে না বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আল জাজিরাকে এক ইরানি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ওয়াশিংটন যদি তাদের শর্ত ও অঙ্গীকারগুলো পূরণ করে, তবে আরও কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবটি এটাই ইঙ্গিত করে যে দুই দেশের কূটনৈতিক অগ্রগতি এখনও স্থবির হয়ে আছে।

জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও রাজনীতির অধ্যাপক সাইরাস শায়েগ সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, মৌলিক জায়গাগুলোতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ইরান যুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া প্রভাব ধরে রেখে জুনের সমঝোতা স্মারকে ফিরতে চাইছে, আর যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ বন্ধে বড় কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা কম বলেও মনে করেন এই অধ্যাপক।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনের আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে তা ‘সবচেয়ে ভাল’ হত।”

তবে সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আগেই স্পষ্ট করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনও চুক্তি তাদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়ের ওপর নির্ভর করবে না।