২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পুতিনের সঙ্গে ‘উচ্চ-ঝুঁকির’ বৈঠকে বসতে আলাস্কার পথে ট্রাম্প

ট্রাম্প ও পুতিনের আলাস্কা বৈঠক থেকে যে কেবল ইউক্রেইন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ হতে পারে তাই নয়, ইউরোপের নিরাপত্তার ভাগ্যও নির্ধারণ করে দিকে পারে এই বৈঠক।

পুতিনের সঙ্গে ‘উচ্চ-ঝুঁকির’ বৈঠকে বসতে আলাস্কার পথে ট্রাম্প
ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Aug 2025, 07:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:35 PM

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে আলাস্কায় যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

২০২১ সালের পর প্রথম রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতার মধ্যে এই বৈঠক হতে চলেছে, যে বৈঠককে ঘিরে বিরাজ করছে উচ্চমাত্রার ঝুঁকি।

কারণ, এই বৈঠক থেকে যে কেবল ইউক্রেইন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ হতে পারে তাই নয়, ইউরোপের নিরাপত্তার ভাগ্যও নির্ধারণ করে দিকে পারে এই বৈঠক।

ট্রাম্প এরই মধ্যে আলস্কার পথে রওনা হয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেইন যুদ্ধ শেষ করতে পুতিন চুক্তি করতে চান বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তবে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা ২৫ শতাংশ- সেটিও ট্রাম্প বলেছেন।

তিনি খোদ এই বৈঠককে বর্ণনা করেছেন উচ্চ-ঝুঁকির বৈঠক হিসাবে। বৈঠকের সফলতা নিয়ে তার সংশয় স্পষ্ট হয়েছে আলাস্কায় রওনা দেওয়ার সময়  ট্রুথ স্যোশালে তার লেখা মন্তব্যে। 

এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে রওনা দেওয়ার প্রাক্কালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন: “উচ্চ-ঝুঁকি!!!” ইউক্রেইন যুদ্ধ শেষ করতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যেগুলোর মীমাংসা করতে হবে দুই নেতাকে।

আলাস্কার এই বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে থাকবেন আরও ৫ রুশ প্রতিনিধি, যার মধ্যে আছেন- প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকোভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী  আন্দ্রেই বেলুসোভ, অর্থমন্ত্রী অ্যান্টন সিলুয়ানোভ এবং রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ।

বৈঠক যে উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতির পথ সুগম করবে এমন ধারণা তেমন কেউ করছেন না। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান না হলে বৈঠকে অর্থবহ কোনও শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই। ঝুঁকিটা এখানেই।

এই বিষয়গুলোর মধ্যে প্রথমেই আছে ভূমি। তিন বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধে রাশিয়া ইউক্রেইনের একপঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে রাখলেও তারা এখনও আরও ভূমি দাবি করছে। 

এ সপ্তাহের শুরু দিকে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, পুতিন দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাদবাকী অংশ চান যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে। তবে ইউক্রেইন বলছে, তারা এই ছাড় দিতে রাজি নয়। তাছাড়া, ইউক্রেইনের নাগরিকরাও রাশিয়াকে আর ভূমি দিতে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আবার রাশিয়া এবং ইউক্রেইনের দখলে থাকা অঞ্চলগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা পাওয়া নিয়েও দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ আছে। ফলে অধিকৃত অঞ্চলগুলোর মর্যাদার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হলে তা ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য তুলে রাখতে হতে পারে।

ভূমির বিষয়টি ছাড়াও আরও আছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য, যুদ্ধপরাধ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠনসহ অন্যান্য আরও কিছু বিষয়- যেগুলোর সমাধান হওয়া প্রয়োজন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। 

রাশিয়া নিজেদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার জন্য একটি নিরপেক্ষ ইউক্রেইন চায়। বাস্তবে যার মানে হচ্ছে, একটি দুর্বল প্রতিবেশী দেশ থাকা- যাদের পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকবেনা। 

আগের শান্তি আলোচনাগুলোতে এবং এখনও রাশিয়া ইউক্রেইনের সামরিক বাহিনীর আকার অনেক কমিয়ে আনার দাবি করে আসছে। ইউক্রেইনে জেলেনস্কির শাসনও পরিবর্তন চায় রাশিয়া।

ওদিকে, ইউক্রেইন নিজেদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার জন্য চায় পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোতে যোগ দিতে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারপরও পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোর কাছ থেকে দ্বিপক্ষীয় কিংবা বহুপক্ষীয়ভাবে ইউক্রেইন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে।

ইউক্রেইনে যুদ্ধবিরতি হলে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সেখানে ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েন করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে রাজি। কিন্তু রাশিয়া এর বিরোধিতা করে আসছে। ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও বলেছে, আবার কোনও যুদ্ধ পরিস্থিতি যাতে না হয় সেজন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার ব্যবস্থায় অংশ নিতে তারা প্রস্তুত।

কিন্তু ইউক্রেইন তাদের নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেরাই নির্ধারণ করবে- সেটি রাশিয়া মেনে নিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় কোনও সমঝোতা বা অগ্রগতি হওয়া অসম্ভব।