গাজা থেকে শেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার, খুলতে পারে রাফা ক্রসিং
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল সব জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়া।
গাজা থেকে সবশেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।
সোমবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৮৪০ দিনের বেশি সময় গাজায় জিম্মি থাকা পুলিশ কর্মকর্তা রান গভিলির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং তা দাফনের জন্য ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল সব জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়া।
সবশেষ এই জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের ফলে গাজা ও মিশরের মধ্যকার প্রধান প্রবেশদ্বার ‘রাফা ক্রসিং’ সীমিত পরিসরে পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ সুগম হল বলে মনে করা হচ্ছে।
কারণ ইসরায়েল এর আগে বলেছিল, শেষ জিম্মির মরদেহ পেয়ে গেলেই তারা রাফা ক্রসিং পুনরায় খুলে দেবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধাদের হামলার সময় নিহত হয়েছিলেন রান গভিলি। এরপর থেকে তার দেহাবশেষ সেই থেকে গাজাতেই রাখা ছিল।
গভিলির মা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলেকে ‘বীর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পার্লামেন্টে (নেসেট) সাংবাদিকদের বলেন, গভিলির মরদেহ উদ্ধার করা ইসরায়েলের জন্য একটি ‘অবিশ্বাস্য সাফল্য’।
তিনি বলেন, “রান গাভিলি ইসরায়েলের একজন নায়ক, যে সবার আগে লড়তে গিয়েছিল এবং সবশেষে ফিরে এল।” ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের হামলায় মোট ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
গতবছর অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময় ৪৮ জন জিম্মি গাজায় অবশিষ্ট ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৮ জন মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছিল। গভিলি ছিলেন সেই তালিকায় থাকা সবশেষ ব্যক্তি।
গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের প্রধান শর্ত ছিল, জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে হস্তান্তর করা। গাজা প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়া মার্কিন সমর্থিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের কমিটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই রাফা সীমান্ত খুলবে।
তবে ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র সীমান্ত খোলার সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জিম্মি হস্তান্তরের শর্ত পূরণ হলেও চুক্তির অন্যান্য অংশ বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে এখনও উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ রয়ে গেছে।
