পাকিস্তানকে ‘ব্যাপক সাহায্যের’ আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

ইসলামাবাদ তাদের বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩ হাজার কোটি ডলার উল্লেখ করার পর তিনি এ আহ্বান জানান।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Sept 2022, 10:28 AM
Updated : 10 Sept 2022, 10:28 AM

বন্যাদুর্গত পাকিস্তান সফরে গিয়ে দেশটিকে ‘ব্যাপক’ আন্তর্জাতিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

ইসলামাবাদ তাদের বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩ হাজার কোটি ডলার উল্লেখ করার পর তিনি এ আহ্বান জানান, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নজিরবিহীন রেকর্ড বৃষ্টি আর উত্তরের পর্বতের হিমবাহ গলনের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা দেশটির অসংখ্য বাড়িঘর, সড়ক, রেলপথ, সেতু, গবাদিপশু ও ফসল ভাসিয়ে নিয়েছে, প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এক হাজার চারশর বেশি মানুষের।

দেশটির বিশাল অংশ এখনও পানির নিচে, বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে লাখো মানুষ।

পাকিস্তানের সরকার বলছে, এবারের বন্যায় দেশের সোয়া তিন কোটি মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

গুতেরেস ও দেশটির সরকার উভয়েই বন্যার জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছে।

“ক্ষতির পরিমাণ ৩ হাজার কোটি ডলার, এই প্রাথমিক অনুমানের ভিত্তিতে পাকিস্তানের ব্যাপক আর্থিক সহায়তা দরকার, এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি (তাদেরকে সহায়তা দেওয়ার) আহ্বান জানাচ্ছি আমি,” দুইদিনের সফরে পাকিস্তান গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজধানী ইসলামাবাদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন গুতেরেস।

শরিফ বলেন, পাকিস্তানের ত্রাণ কার্যক্রমে সীমাহীন অর্থায়ন দরকার। পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা না পাওয়া পর্যন্ত দেশটি সমস্যায় থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরেক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল জানিয়েছিলেন, বন্যার এই ক্ষয়ক্ষতি ফলে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

দুর্যোগে খাপ খাইয়ে নিতে পাকিস্তানকে ১৬ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার একটি আবেদনও উত্থাপন করেছে জাতিসংঘ।

শরিফ ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলওয়াল ভুট্টো-জারদারির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি এবারের পাকিস্তান সফরে গুতেরেসের বন্যাক্রান্ত এলাকা পরিদর্শনেরও কথা রয়েছে।

গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বিলওয়াল জানান, পুনর্গঠন কাজ নিয়ে দাতা সম্মেলন ডাকার আগে সংকটের উদ্ধার ও ত্রাণ পর্যায় সমাপ্তির জন্য অপেক্ষা করছে পাকিস্তান।

“পাকিস্তানের মাঝখানে যখন একটি ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হ্রদ হয়ে যায়, বলুন আমাকে, এই পানি নিষ্কাশনে কত বড় নিষ্কাশন পথ বানাতে পারি আমি? এমন কোনো মনুষ্যনির্মিত স্থাপনা নেই, যা এই পানি সরাতে পারে,” বলেছেন তিনি।

গুতেরেস বলেছেন, স্বল্প আয়ের দেশগুলোর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কত ভয়াবহ হয়, বিশ্বের তা বোঝা উচিত।

“আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এটি অনুধাবন করা উচিত, বিশেষ করে সেই দেশগুলোর, জলবায়ু পরিবর্তনে যাদের অবদান অন্যদের থেকে বেশি,” বলেছেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানের বন্যাদুর্গত এলাকার ৬৪ লাখের বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

এদিকে বন্যার পর ধ্বংসস্তূপ সরানো ও পুনর্গঠন কাজে বিপুল খরচ পাকিস্তানের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত তিন সপ্তাহ ধরে দেশটির সরকারি বন্ডের দাম নামছেই, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফেইস ভ্যালু প্রায় অর্ধেকে পৌঁছে গেছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, দেশটি ঋণখেলাপিতে পরিণত হতে পারে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক