০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাঙনের পথে যুক্তরাজ্য? স্বাধীনতার জন্য গণভোট দাবিতে একজোট ৩ অঞ্চল

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট করার অধিকারের দাবি নিয়ে কার্ডিফে বৈঠকে বসতে চলেছেন।

ভাঙনের পথে যুক্তরাজ্য? স্বাধীনতার জন্য গণভোট দাবিতে একজোট ৩ অঞ্চল
ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Sep 2026, 06:45 PM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

যুক্তরাজ্য কি এবার ভেঙে যাবে? দেশটির অখণ্ডতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ, যুক্তরাজ্যর তিন স্বশাসিত অঞ্চল একজোট হচ্ছে স্বাধীনতার জন্য গণভোটের দাবিতে।

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠানের অধিকারের দাবি নিয়ে সোমবারই বৈঠকে বসতে চলেছেন।

ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এই বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। দাবি আদায়ের জন্য চাপ বাড়াতে যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা করেছেন তিন অঞ্চলের নেতারা।

পাঁচ তারকা সেন্ট ডেভিড’স হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে বৈঠক। বৈঠকে নেতাদের ওই ঘোষণাপত্র সই করার কথা রয়েছে, যা লন্ডনভিত্তিক কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৈঠকে থাকতে পারেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইওরওয়ার্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নেল।

ইতিহাসে এই প্রথম যুক্তরাজ্যের তিন স্বশাসিত অঞ্চলের সরকার এমন রাজনৈতিক শক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা সরাসরি স্বাধীনতা অথবা আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণকে সমর্থন করে।

‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকা জানিয়েছে, ঘোষণাপত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের বিষয়টি ছাড়াও অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও থাকবে। 

স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দিতে চায় এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে পুনরেকত্রিত হতে চায়। তাছাড়া, ওয়েলস কর ও রাজস্ব আদায়ে আরও বেশি ক্ষমতা দাবি করছে।

বৈঠক থেকে তিন অঞ্চলের নেতারা এসব দাবিই তুলবেন। তাছাড়া, বৈঠকের ঘোষণপত্র বা স্মারকলিপিতে স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও থাকবে।

তিন অঞ্চলের নেতাদের ঘোষণাপত্র সইয়ের লক্ষ্য হল, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নামের ওপর চাপ বাড়ানো; বিশেষ করে যখন বার্নাম একথা উল্লেখ করেছেন যে, জনগণের সমর্থন থাকলে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সম্প্রতি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সে দেশের হাউস অফ কমন্সে এই মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবিতে কোনও ‘সুস্পষ্ট ঐকমত্য’ থাকলে তিনি সেখানে গণভোটের অনুমতি দেবেন।

কিন্তু পরে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন বার্নাম। জানিয়ে দেন, তিনি কোনও গণভোটে সায় দেবেন না এবং স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের বিষয়ে কোনও মতৈক্য নেই বলও তিনি দাবি করেন।

তবে গত রোববার স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্য থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের (যেমন স্কটল্যান্ড) আলাদা হয়ে যাওয়ার দাবি দিন দিন এতটাই জোরাল হচ্ছে যে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

তিনি এমন ধারণাও প্রকাশ করেন যে, বার্নাম যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে পারেন, যার আমলে যুক্তরাজ্য ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেতে পারে।

স্কটল্যান্ডে গত নির্বাচনে এসএনপি ৬টি আসন হারালেও সেখানে রিফর্ম পার্টি এবং স্বাধীনতাপন্থি গ্রিন পার্টি নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। 

অন্যদিকে, ২০২২ সালের ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকেই উত্তর আয়ারল্যান্ডে ক্ষমতায় থাকা সিন ফেইন আগামী বছরের নির্বাচনেও জয়ী হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কার্ডিফে আয়োজিত তিন স্বশাসিত অঞ্চলের নেতাদের বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার সুইনি বলেন, “ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন স্বাধীনতাকামী ফার্স্ট মিনিস্টাররা। 

“এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা যে, বিদ্যমান ব্যবস্থা আর টেকসই নয় এবং ওয়েস্টমিনস্টারকে যুক্তরাজ্য-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।”

এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন লন্ডনের কেন্দ্রীয় সরকার নানামুখী রাজনৈতিক চাপে রয়েছে। ওদিকে, যুক্তরাজ্যে ভাঙনের এই শঙ্কার মধ্যেই বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য।

আয়ারল্যান্ড সফরকালে ডাবলিনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ ছেড়ে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ গঠন করলে তিনি তা সানন্দে সমর্থন করবেন এবং বিষয়টি ‘দারুণ’ হবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জেরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উপরে ঘরোয়া রাজনীতিতে আরও চাপ বেড়ে গেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।