২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মুসলিম দেশগুলোকে ‘প্রকৃত শত্রুর’ মোকাবেলা করার আহ্বান মুজতাবা খামেনির

মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফিলিস্তিনিরা ‘এতো অসহায় অবস্থায়’ পড়তো কি না, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

মুসলিম দেশগুলোকে ‘প্রকৃত শত্রুর’ মোকাবেলা করার আহ্বান মুজতাবা খামেনির
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2026, 08:31 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:02 PM

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি মুসলিম দেশগুলোকে, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে, ‘প্রকৃত শত্রুর’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তাদের শত্রুদের স্বার্থের পক্ষে যায়।  

ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ (ঈদে মিলাদুন্নবী) উপলক্ষ্যে রোববার নিজের সামাজিক মাধ্যম একাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।  

রয়টার্স জানিয়েছে, বার্তায় তিনি মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও পারস্পরিক প্রতিরক্ষার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে সে ‘বুঝে বা না বুঝে’ ইসলামের শত্রুদের সাহায্য করছে। 

মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফিলিস্তিনিরা ‘এতো অসহায় অবস্থায়’ পড়তো কি না, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

তিনি বিশেষভাবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর শাসকদের বলেন, এসব দেশগুলোর জনগণ ও সরকার যদি ‘ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকত’, তাহলে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের শক্তিগুলো তাদের ভূখণ্ড ও সম্পদের ওপর লোভ করার সাহস পেত না। 

খামেনি বলেন, “মুসলিম দেশগুলোর শাসকদের প্রতি, বিশেষভাবে পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর, আমার জোরালো ও পুনর্ব্যক্ত সুপারিশ হল আপনাদের প্রকৃত শত্রুকে শনাক্ত করুন, তার পরিকল্পনা বুঝুন আর তা মোকাবেলা করুন।”  

ইরানি গণমাধ্যম পার্স টুডে জানিয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার ‘অভিন্ন শত্রু’ বলে অভিহিত করেছেন। 

খামেনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শত্রুতা শুধু ইরান, ইরান জনগণ বা ইসলামকে প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার জনগণসহ পুরো মুসলিম জাহানের প্রতিই তাদের শত্রুতাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।”  

যেসব মুসলিম দেশের শাসকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সহযোগী হিসেবে’ বিবেচিত হন, তারাও এই শত্রুতার আওতার মধ্যেই রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

রয়টার্স লিখেছে, শুক্রবার ইরানিদের প্রতিও প্রায় একই ধরনের ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন খামেনি। বিবৃতিতে তিনি জানান, তিনি সামাজিক সংহতি ক্ষুণ্ণ করে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছেন এবং জাতীয় ও জনগণের মনোবল দুর্বল করে দেয় এমন ‘নিরুৎসাহব্যঞ্জক বিবৃতি’ থেকে বিরত থাকার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।  

ছয় মাস আগে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মুজতাবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ওই হামলায় তার বাবা ও ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। আর ওই হামলার মধ্য দিয়েই ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়।   

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লব হয়। তারপর থেকে দেশটির বিপ্লবী আদর্শ, রাজতন্ত্র বিরোধী প্রচারণা ও আঞ্চলিক প্রভাবকে উপসাগরীয় আরব রাজতন্ত্রগুলো তাদের রাজনৈতিক পদ্ধতির জন্য একটি হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। 

চলমান যুদ্ধের সময় তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার পাশপাশি অন্যান্য অবকাঠামোতেও হামলা চালায়। এতে তেহরান ও তাদের উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।