কঙ্গোয় ইবোলার প্রাদুর্ভাবে ৬ মার্কিনি আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা
ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক। বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইবোলার এই প্রাদুর্ভাবকে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ইবোলা আক্রান্ত সন্দেহে ৩৫০ জন শনাক্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৯১ জন।
ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে একজনের শরীরে ইবোলার লক্ষণ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য তিনজনের ক্ষেত্রে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ-ঝুঁকি রয়েছে। তবে তারা আসলেই এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, তারা কঙ্গোয় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত অল্প সংখ্যক মার্কিন নাগরিককে ‘নিরাপদে সরিয়ে আনার’ কাজে সহায়তা করছে। তবে সুনির্দিষ্ট কতজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা সিডিসি নিশ্চিত করেনি।
স্বাস্থ্য বিষয়ক নিউজ সাইট ‘স্ট্যাট' জানিয়েছে, মার্কিন সরকার কঙ্গোয় থাকা তাদের নাগরিকদের নিরাপদ কোয়ারেন্টিন বা কোয়ারেন্টিনের সুবিধাযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের চেষ্টা করছে।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সাইটটি আরও জানায়, এই দলটিকে জার্মানির একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হতে পারে, যদিও এই তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সিডিসি এই মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
তবে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এখনও অনেক কম। সতর্কতার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন কঙ্গো সফরের ওপর সর্বোচ্চ ‘লেভেল ফোর’ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হলেও এটি এখনও ‘মহামারী’ বা প্যানডেমিক-এর রূপ নেয়নি।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, বর্তমানে যে সংখ্যার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত রূপ তার চেয়ে অনেক বড় হতে পারে এবং এটি স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
আফ্রিকা সিডিসি-র মহাপরিচালক জিন কাসেয়া বিবিসি-কে বলেন, কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ না থাকায় সাধারণ মানুষকে জনস্বাস্থ্য বিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
বিশেষ করে মৃতদেহ সৎকারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যাতে শেষকৃত্য থেকে নতুন করে কেউ সংক্রমিত না হন।
ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে কঙ্গো এবং পার্শ্ববর্তী উগান্ডাকে সীমান্ত স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, উগান্ডাতেও ইতিমধ্যে দুজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সতর্কতার অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা ও নাইজেরিয়া সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে।
