ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসির নেতা আল-জুবাইদি পালিয়েছেন, দাবি সৌদি জোটের
একটি নির্ধারিত ফ্লাইটে করে তাকে রিয়াদে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি না এসে ‘পালিয়ে গেছেন’।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) এর নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি রিয়াদে যাওয়ার বিমানে না উঠে অজ্ঞাত গন্তব্যে পালিয়ে গেছেন বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী জানিয়েছে।
বুধবার জোট বাহিনী জানিয়েছে, নির্ধারিত ওই বিমানে করে তাকে সৌদি আরবের রাজধানীতে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, গত মাসে এসটিসি ও ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে লড়াই শুরু হয়। এ লড়াই বন্ধ করার প্রচেষ্টার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। ইয়েমেনে এই দুই বাহিনীর লড়াই নিয়ে পারস্য উপসাগরীয় দুই প্রভাবশালী আরব দেশের মধ্যে বড় ধরনের বিবাদ শুরু হয়েছে।
দুই দিন আগে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকার জানিয়েছিল, তারা দক্ষিণাঞ্চলের সমস্যা নিয়ে রিয়াদকে একটি মুক্ত আলোচনার আয়োজন করতে বলেছে। এই আলোচনায় যোগ দিতে জুবাইদির রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল।
এক বিবৃতিতে জোট বাহিনীর মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, একটি ফ্লাইট বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি বড় দলকে নিয়ে রিয়াদের পথে রওনা হয়। এর আগে ফ্লাইটটি জুবাইদির জন্য তিন ঘণ্টারও বেশি সময় দেরি করে কিন্তু তিনি আসেননি, কোথায় আছেন সে তথ্যও জানাননি।
মালিকি আরও বলেন, “দেরির সময় যে সব খবর পাওয়া যেতে থাকে তাতে ইঙ্গিত মেলে যে তিনি অনেক বড় বাহিনী নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে এবং আন্দোলন ও সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন আর হালকা ও মাঝারি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে দলগুলিতে সজ্জিত করছেন।”
ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে বিশাল অঞ্চল দখল করে রাখা ইরান সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠী হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বে সুন্নি আরব দেশগুলোর বাহিনী নিয়ে একটি সামরিক জোট বাহিনী গঠিত হয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মধ্যে বিরোধের কারণে এই জোটে ভাঙন ধরেছে। অপরদিকে হুতিরা এখনও ইয়েমেনের প্রভাবশালী সামরিক শক্তি হিসেবে বহাল আছে।
২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের তৎকালীন সুন্নি সরকারকে উৎখাত করে রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পরের বছর উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষ হয়ে দেশটিতে হস্তক্ষেপ করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোট বাহিনীর হস্তক্ষেপের ফলে ইয়েমেন উত্তর ও দক্ষিণে দুটি পরস্পরবিরোধী বাহিনীর অধীনস্ত হয়ে পড়ে।
সৌদি জোট বাহিনী জানিয়েছে, জুবাইদির নেতৃত্বাধীন বাহিনী শিবির ছেড়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় তারা তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল, তারপর ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-দালিয়া প্রদেশে উদ্দেশ্যমূলক আগাম সীমিত বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের স্থানীয় সূত্র ও এসটিসির সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, জুবাইদির জন্মস্থান প্রদেশটিতে ১৫টিরও বেশি আঘাত হানা হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, এসব ঘটনার পর সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল জুবাইদিন সদস্যপদ বাতিল করেছে এবং সরকারি কৌঁসুলিকে তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।
প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমির ওই সিদ্ধান্তে জুবাইদির বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহী উস্কে দেওয়া, সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে আক্রমণ এবং ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বেসামরিকদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব বিরোধ দেখা দেওয়ার আগে এসটিসি অনেক বছর ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অংশ ছিল।
আরও পড়ুন:
