Published : 25 Aug 2025, 06:45 PM
দেশের ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থের সুরক্ষায় যেখানে ‘ভালো দাম’ মিলবে সেখান থেকেই ভারত তেল কেনা অব্যাহত রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ায় নয়া দিল্লির রাষ্ট্রদূত ভিনয় কুমার।
ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ৫০% সম্পূরক শুল্ক কার্যকর হওয়ার কয়েকদিন আগে তিনি এ মন্তব্য করলেন। এই ৫০%-র অর্ধেকই দেওয়া হয়েছে নয়া দিল্লি মস্কোর কাছ থেকে তেল ও অস্ত্র কেনা অব্যাহত রাখায়।
এদিকে রোববার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, রাশিয়ার ওপর ‘অর্থনৈতিক চাপ’ বাড়াতে এবং ইউক্রেইনে যুদ্ধ থামাতেই ট্রাম্প ভারতের ওপর এই ‘সেকেন্ডারি’ বা ‘পরোক্ষ শুল্ক’ আরোপ করেছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দিল্লি সস্তা রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়াতে থাকে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন বাড়িয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় প্রভাব ফেলেছে, বলছে বিবিসি।
২০২৪ সালে ভারত যত অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, তার ৩৫-৪০ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে, অথচ ২০২১ সালেও এই পরিমাণ ছিল মাত্র ৩%।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভারত রুশ তেল কিনে মস্কোকে ইউক্রেইনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে। নয়া দিল্লি এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
রোববার ভিনয় কুমার রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে বলেন, ভারতের বাণিজ্য বাজারের নিয়মে চলে এবং তাদের অগ্রাধিকারই হচ্ছে নিজেদের জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ট্রাম্পের ‘সেকেন্ডারি শুল্ককে’ ভারত ‘অন্যায়, অহেতুক ও অন্যায্য’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে; ভিনয় সেই ভাষ্য রোববারও পুনর্ব্যক্ত করেন।
তার কয়েক ঘণ্টা আগেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রুশ অপরিশোধিত তেল কেনার পক্ষে নিজের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
“ব্যবসার পক্ষে থাকা মার্কিন প্রশাসনের লোকজন যে ব্যবসার জন্য অন্যদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে তা বেশ হাস্যকর,” শনিবার এমনটাই বলেছিলেন জয়শঙ্কর। তিনি চীন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর কেন ‘সেকেন্ডারি শুল্ক’ আরোপ হচ্ছে না সে প্রশ্নও তোলেন।
রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এখনও চীন, আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও রাশিয়ার ব্যবসা অব্যাহত আছে।
জয়শঙ্কর বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আছে ভারতের।
তার এ মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও নয়া দিল্লি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কমাবে না এমন ইঙ্গিতই রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে ইউক্রেইনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তবে রাশিয়া এখনও নয়া দিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত মিত্র।
মস্কো-কিইভ সংঘাতের ক্ষেত্রে দিল্লি শুরু থেকেই ‘আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান’ চেয়ে আসছে।