বাণিজ্য আলোচনার আগে চীনা পণ্যে ৮০% শুল্কের প্রস্তাব ট্রাম্পের
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী থাকার ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির পণ্যে শুল্ক কমানোর এই প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনের পণ্যে শুল্ক কমিয়ে ৮০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী থাকার ইঙ্গিত দিয়ে সর্বশেষ এই প্রস্তাব দিলেন তিনি।
এ সপ্তাহান্তেই বাণিজ্য যুদ্ধ নিরসনের প্রথম ধাপে সুইজারল্যান্ডে চীনের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তার আগে শুক্রবার ট্রাম্প স্যোশাল মিডিয়ায় লেখেন, “চীনের পণ্যে ৮০ শতাংশ শুল্ক রাখই ঠিক মনে হচ্ছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের আগে দিয়ে চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়া চুনিংও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যর বিষয়টি সামাল দিতে সক্ষম হওয়ার ব্যাপারে বেইজিংয়ের “পূর্ণ আস্থা আছে।”
গত এপ্রিল থেকে ট্রাম্প চীনের আমদানি পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ কর আরোপ করে রেখেছেন। এতে অর্থবাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যও নিম্নমুখী হয়েছে।
শুক্রবার এপ্রিলের সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্য রপ্তানি এক বছর আগের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। তবে একই সময়ে চীনের মোট রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ।
পলিটিক্যাল রিস্ক কনসালটেন্সি ইউরেশিয়া গ্রুপের ড্যান ওয়াং বিবিসি-কে বলেন, “চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের কর্মকর্তারাই অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে আছেন। দুইপক্ষ থেকে এখন যে ইঙ্গিত মিলছে তাতে বোঝা যাচ্ছে, বাণিজ্য উত্তেজনা নিরসন আলোচনার টেবিলেই আছে।”
এ সপ্তাহের শুরুর দিকে এই বাণিজ্য আলোচনার ঘোষণা আসে। উত্তেজনা নিরসনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে এ ঘোষণা সাদরে গৃহীত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘকালীন আলোচনার সূচনাও হতে পারে।”
“যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের লাগামহীন সংঘাত খুব তাড়াতাড়িই মিটে যাবে না”, বলেছেন সাবেক মার্কিন বাণিজ্য আলোচক স্টিফেন ওলসন। তিনি বলেন, বৈঠকের ফলে শুল্কে কোনও কাটছাঁট খুবই নগন্য একটি একটি বিষয় হতে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের বাণিজ্য আলোচনায় প্রাথমিকভাবে নেতৃত্ব দেবেন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসান্ট এবং বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হে লিফেং।
তবে সাবেক মার্কিন বাণিজ্য আলোচক ওলসন বলেন, কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রেসিডেন্টেরই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত হওয়ার প্রয়োজন পড়বে- এটি প্রত্যেকেই স্বীকার করবেন বলে তিনি মনে করেন।
