২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বজুড়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ডাক নেপালের

নেপাল বিশ্বে সবচেয়ে কম গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করলেও বিশ্ব উষ্ণায়নের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের একটি বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বজুড়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ডাক নেপালের
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2026, 11:02 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:02 PM

নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বজুড়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ডাক দিয়েছেন নেপালি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নেপাল বিশ্বে সবচেয়ে কম গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করলেও বিশ্ব উষ্ণায়নের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের একটি।

খানাল স্পষ্ট করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আন্তর্জাতিকভাবে জোরাল পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।

খানাল বলেন, “আমি বিশ্বকে অনুরোধ জানাচ্ছি.. তারা যেন জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসাবে দেখে, যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে নেপাল ও দেশটির নাগরিকরা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আবশ্যক।

“আমরা বিশ্বসম্প্রদায়কে একযোগে এগিয়ে এসে হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

ভারত, চীন, নেপাল এবং ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক পরিবেশগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন খানাল।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতেই পারে, কিন্তু এ অঞ্চলের দেশগুলো একই হিমালয় অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে জড়িত এবং সবার অস্তিত্বই এর সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল।

নেপাল সরকার দুর্যোগের কারণ আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য ওই এলাকার তুষারধস নিয়ে তদন্ত করার পরিকল্পনা করছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে খানাল বলেন, সরকার আরও গবেষণা করার পরিকল্পনা করেছে।

তাছাড়া, হিমালয়ের পরিবর্তনগুলো আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য চীনা গবেষকদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই একটি 'যৌথ ব্যবস্থা' চালু রয়েছে বলে জানান তিনি।

হিমালয়ের হিমবাহগুলো শত শত কোটি মানুষের পানির প্রধান উৎস। বিশ্ব উষ্নায়নের প্রভাবে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে এগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ পানি সংকটের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো মারাত্মক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

নেপালের হিমালয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। ফলে হিমবাহ গলে বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদ ভাঙা বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনা বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে নেপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই সংকটের জন্য দায়ী নয়। তাই শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোকে, যারা সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করছে, তাদের এই ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার নিতে হবে।