Published : 15 Sep 2025, 03:03 PM
তাইওয়ানকে চাপে রাখতে ও স্বশাসিত দ্বীপটিকে আরও একা করে দিতে চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কিছু নথিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে বলে দাবি করেছে তাইপেতে অবস্থিত ডি ফ্যাক্টো মার্কিন দূতাবাস।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সেসব চুক্তিতে তাইওয়ানের চূড়ান্ত রাজনৈতিক অবস্থান বা ভবিষ্যৎ শাসনকাঠামো নির্ধারিত হয়নি, বলেছে তারা।
বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তিতে নথিগুলোর বিস্তৃত ঐতিহাসিক মানে ও আজকের দুনিয়ায় প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে তাইপে ও বেইজিং তিক্ত বিরোধে জড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বেইজিংয়ের সরকার বলছে, কায়রো ঘোষণা ও পটসডাম ঘোষণাপত্রের মতো নথিগুলো তাইওয়ানের ওপর চীনের সার্বভৌমত্বের আইনি দাবিকে সমর্থন করছে। কেননা ওই নথিগুলোতে দ্বীপটিকে ‘ফের চীনা শাসনের অধীনে’ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাইওয়ান সেসময় জাপানের উপনিবেশ ছিল।
একই সময়ে চীন ছিল চীনা প্রজাতন্ত্রের সরকারের অধীনে, গৃহযুদ্ধে মাও জে দংয়ের কমিউনিস্টদের কাছে হেরে ওই সরকার ১৯৪৯ সালে পালিয়ে যায়।
তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নাম এখনও চীন প্রজাতন্ত্র। দ্বীপটির সরকার বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোনো চুক্তিতে মাওয়ের গণপ্রজাতান্ত্রিক চীনের (এখনকার চীনের আনুষ্ঠানিক নাম) উল্লেখ নেই, কারণ সেসময় এর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। যে কারণে তাইওয়ানের ওপর এখনকার বেইজিংয়ের কোনো অধিকারই থাকতে পারে না।
“তাইওয়ানকে জোর করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় চীন ইচ্ছাকৃতভাবেই কায়রো ঘোষণা, পটসড্যাম ঘোষণাপত্র ও স্যান ফ্র্যান্সিসকো চুক্তির মতো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন নথিগুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।
“বেইজিংয়ের এসব বয়ান পুরোপুরি ভুয়া, এবং এসব নথির কোনোটিতেই তাইওয়ানের চূড়ান্ত রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারিত ছিল না,” সোমবার রয়টার্সকে ইমেইল করা এক বিবৃতিতে এমনটাই বলেছে তাইওয়ানে অবস্থিত আমেরিকান ইনস্টিটিউট।
১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত স্যান ফ্র্যান্সিসকো শান্তি চুক্তিতে জাপান তাইওয়ানের ওপর তাদের অধিকার ছেড়ে দিলেও দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্নের সমাধান করেনি। পক্ষভুক্ত না থাকায় বেইজিং ওই চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৯ সালে তাইপের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদ করে বেইজিংকে স্বীকৃতি দেয় এবং ‘এক চীন’ নীতি মেনে নেয়। তবে এরপরও তারা স্বশাসিত দ্বীপটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠপোষক।
“তাইওয়ানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের সার্বভৌম পছন্দের সুযোগ সীমিত করার চেষ্টার বিস্তৃত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই বেইজিং এই ভুয়া আইনি বয়ান দিচ্ছে,” বিবৃতিতে বলেছে তাইওয়ানের আমেরিকার ইনস্টিটিউট, যেটি ডি ফ্যাক্টো মার্কিন দূতাবাসের ভূমিকা পালন করে।
এ প্রসঙ্গে রয়টার্স চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সাড়া পায়নি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয়ের বর্ষপূর্তিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে বিশাল এক সামরিক কুচকাওয়াজ দেখিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে চমকে দিয়েছেন। ওই কুচকাওয়াজে মিত্র রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরানসহ বিশ্বের প্রায় ২৬টি দেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন মিশনের বিবৃতির জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়েছেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লাং।
“আমাদের দেশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন কেউই কারও অধীন নয়। আর আন্তর্জাতিক পরিসরে তাইওয়ানের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকারই গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের নেই,” বলেছেন তিনি।