Published : 21 Jan 2026, 05:46 PM
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে জাপানের আদালত।
এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশকে স্তব্ধ করে দেওয়া হত্যাকাণ্ডের সাড়ে তিন বছর পর বুধবার এ সাজার রায় ঘোষিত হল, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০২২ সালের জুলাইয়ে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-য় এক নির্বাচনী প্রচারে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন আবে, সেসময় হাতে তৈরি বন্দুক দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন ৪৫ বছর বয়সী তেতসুইয়া ইয়ামাগামি। ঘটনাস্থল থেকেই ইয়ামাগামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মৃত্যুর সময় আবের বয়স ছিল ৬৭।
নারা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচার শুরুর পর অক্টোবরে প্রথম শুনানিতেই ইয়ামাগামি হত্যার দায় স্বীকার করে নেওয়ার পর তাকে দোষী ঘোষণা করাটা অনুমিতই ছিল। সবার চোখ ছিল সাজার তীব্রতা কতখানি হয় তার ওপর।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক শিনিচি তানাকা গুলির ঘটনাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “বড় একটি জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করা যে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দুস্কৃতিমূলক অপরাধ তা স্পষ্ট।”
রায়ের আগে কৌঁসুলিরা খুনির আমৃত্যু কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। তারা জাপানে সবচেয়ে বেশি সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আবের হত্যাকাণ্ডকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অত্যন্ত মারাত্মক নজিরবিহীন ঘটনা’ অভিহিত করেন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইউনিফিকেশন চার্চ সংশ্লিষ্ট পারিবারিক বিষয়কে সামনে এনে ইয়ামাগামির আইনজীবীরা তার ২০ বছরের কম কারাদণ্ড চেয়েছিলেন।
এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা, তা ইয়ামাগামির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ঠিক করা হবে বলে পরে তার আইনজীবীরা জানান।
নিহত হওয়ার সময় আবে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও তিনি সেসময়ও ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন, যাকে দলটির বিভিন্ন অংশ সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখতো। তার মৃত্যুর পর এলডিপিতে একটি বড় ধরনের শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পদটি গত ২-১ বছরে পরিণত হয়েছে ‘রিভলভিং চেয়ারে’।
দুই মেয়াদের বেশি, ৩ হাজার ১৮৮ দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আবে ২০২০ সালে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
তার শিষ্য খ্যাত সানায়ে তাকাইচি এখন জাপানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যদিও পার্টিতে তার নিয়ন্ত্রণ আবের মতো অতটা শক্ত নয়। আবের মৃত্যুর পর থেকে এলডিপির জনসমর্থনও ক্রমশ নামছে।
তাকে হত্যা করা ইয়ামাগামি আদালতে বলেছেন, তার মা ইউনিফিকেশন চার্চে বড় দান করায় তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষোভই তিনি আবের ওপর ঝেড়েছেন। কারণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী একবার ইউনিফিকেশন চার্চ সংশ্লিষ্ট একটি দলের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
১৯৫৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া ইউনিফিকেশন চার্চ গণবিয়ের জন্য পরিচিত। জাপানি অনুসারীদের অনুদানকে সংগঠনটি তাদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসও মনে করে।
জাপানের রাজনীতিতে আবে বিতর্কের ঊর্ধ্বে না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর আবে প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে একাধিকবার একসঙ্গে গলফ খেলেছেনও তারা।
জাপানের এখনকার প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বারবারই এই বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন।