০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

লেবাননে প্রতি ৫ পরিবারের ১টিতে শিশুরা খালি পেটে ঘুমায়: ইউনিসেফ

লেবাননে টানা সংকটের কারণে অন্তত ৭ লাখ ৭০ হাজার শিশু ও তরুণ গভীর মানসিক চাপে ভুগছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা।

লেবাননে প্রতি ৫ পরিবারের ১টিতে শিশুরা খালি পেটে ঘুমায়: ইউনিসেফ

লেবাননের বাস্তুচ্যুত শিশুরা। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 06:09 PM

Updated : 01 Oct 2026, 06:08 PM

লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে দেশটির শিশুদের জীবন মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সেখানে প্রতি পাঁচটি পরিবারের অন্তত একটিতে শিশুরা পেটে ক্ষুধা নিয়ে রাতে ঘুমাতে যায়।

তাছাড়া, একই অনুপাতে পরিবারগুলো নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকটে রয়েছে। বুধবার জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এই সতর্কবার্তা দিয়েছে বলে জানিয়েছে আরব নিউজ।

সংস্থাটি জানায়, দেশটিতে টানা সংকটের কারণে অন্তত ৭ লাখ ৭০ হাজার শিশু ও তরুণ গভীর মানসিক চাপে ভুগছে। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি, পড়াশোনা ব্যাহত হওয়া, চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা এবং সংকুচিত অর্থনৈতিক সুযোগের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

লেবাননে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মার্কোলুইজি কোর্সি বলেন, “লেবাননের শিশু ও তরুণদের আজ এমন এক বোঝা বইতে হচ্ছে, যা কোনও শিশুরই বহন করা উচিত নয়।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “জরুরি ও টেকসই পদক্ষেপ না নিলে এই চাপ তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে বহু বছরের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউনিসেফ উল্লেখ করে, জরিপ করা পরিবারগুলোর প্রতি তিনটির একটি জানিয়েছে আর্থিক অনটনের কারণে তারা সন্তানদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেনি।

তাছাড়া, ১৪ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে তাদের অন্তত একটি শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর রক্তক্ষয়ী সংঘাত এই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৬১ শিশু নিহত এবং ১ হাজার ৫৬ জন আহত হয়েছে। অর্থাৎ, গত ছয় মাসে প্রতিদিন গড়ে সাতজন শিশু হতাহত হয়েছে। আহত শিশুদের প্রায় ১২ শতাংশ স্থায়ী প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বেঁচে রয়েছে।

সংঘাতের কারণে ৪৩৬টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১ লাখ শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব হামলায় ৮৬ জন শিক্ষক নিহত বা আহত হয়েছেন।

যেসব এলাকায় স্কুল খোলা রয়েছে, সেখানেও আর্থিক অনটন ও মানসিক আঘাতের কারণে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। ৪৬ শতাংশ পরিবার শিক্ষার পেছনে খরচ কমিয়েছে এবং ১৭ শতাংশ পরিবার সন্তানদের স্কুল থেকেই ছাড়িয়ে নিয়েছে। আর ভর্তি থাকা শিশুদের ২৯ শতাংশই মানসিক কষ্ট ও মনোযোগের অভাবে স্বাভাবিকভাবে শিখতে পারছে না।

ইউনিসেফ জানায়, অর্ধেকেরও বেশি পরিবার জানিয়েছে গত ছয় মাসে তাদের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে এবং ৬৩ শতাংশ শিশু সবসময় আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় ভুগছে।

সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, কেবল মানবিক সহায়তা দিয়ে লেবাননের এই সংকটের বিশালতা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

কোর্সি বলেন, “জরুরি ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পুরো একটি প্রজন্ম এই সংকটের ক্ষত বুকে নিয়েই বড় হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।”

গত ১৭ এপ্রিল লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও লেবানন ভূখণ্ডে বিমান হামলা ও বাড়িঘর ধ্বংসের অভিযান থামেনি বলে জানায় ইউনিসেফ।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয় সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ক্রমাগত বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও সামরিক অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছে।

চলতি বছরের শুরুতে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল, যাদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ এখনও নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেনি।