২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলে বিনামূল্যের খাবারে অসুস্থ ৩ শতাধিক

মধ্য জাভা প্রদেশের স্রাগেন শহরের  স্কুলে বিনামূল্যে দেওয়া এই খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সাময়িকভাবে এ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলে বিনামূল্যের খাবারে অসুস্থ ৩ শতাধিক
ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Aug 2025, 09:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:35 PM

ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভার স্রাগেন শহরে  স্কুলে বিনামূল্যে দেওয়া খাবার খেয়ে অন্তত ৩৬৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ানতো’র বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচি চালুর পর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং স্রাগেনে সাময়িকভাবে এ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রায় ২, ৮০০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পটি শিশুদের অপুষ্টি ও খর্বাকৃতি প্রতিরোধে প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ।

গত জানুয়ারিতে চালু হওয়া বিনামূল্যের খাদ্য কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত দেশব্যাপী এক হাজারের বেশি মানুষ অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশের ৮ কোটি স্কুলশিক্ষার্থীকে খাবার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল।

স্রাগেনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী উইজদান রিধো আবিমান্যু বলেন, “রাতে ঘুম ভেঙে তীব্র পেটব্যথা শুরু হয়, সঙ্গে ডায়রিয়া ও মাথাব্যথা। পরে দেখি, সহপাঠীরাও সামাজিক মাধ্যমে একই উপসর্গের কথা লিখছে।”

খাবারের মধ্যে ছিল হলুদ মিশ্রিত ভাত, ঝুরিভাজা ডিম, ভাজা টেম্পে, শসার সালাদ ও এক বাক্স দুধ—সবই শহরের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরে প্রস্তুত হয়ে কয়েকটি স্কুলে সরবরাহ করা হয়েছিল।

সরকার জানিয়েছে, অসুস্থদের চিকিৎসা ব্যয় তারা বহন করবে। স্রাগেনের প্রশাসক সিগিত পামুঙ্গকাস বলেন, “এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। তবে শুধু এখানেই নয়, সার্বিকভাবে এ কর্মসূচিতে আরও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা দরকার।”

প্রকল্পের জন্য অর্থ জোগাড়ে সরকার প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারের বাজেট কাটছাঁট করেছে, যার ফলে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অর্ধেকে নেমে এসেছে। 

এ নিয়ে সরকারি কর্মীরা নানা অসুবিধার অভিযোগ করেছেন—এসি, লিফট, এমনকি প্রিন্টারের ব্যবহারও সীমিত করতে হচ্ছে।

বাজেট কাটছাঁটের বিরোধিতায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এক বিক্ষোভকারীর পোস্টারে লেখা ছিল—“শিশুরা বিনা পয়সায় খাচ্ছে, বাবা-মা চাকরি হারাচ্ছে।”

শুক্রবার পার্লামেন্টে প্রথম ভাষণে প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো এ কর্মসূচির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “এটি এবং অন্যান্য সামাজিক উদ্যোগ ইন্দোনেশিয়াকে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও কষ্টমুক্ত দেশে রূপান্তর করবে।”