২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

গাজা সিটিতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু

এই অভিযান শুরুর আগে রিজার্ভে থাকা সেনাদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার জনকে ডেকে পাঠায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

গাজা সিটিতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর ধোঁয়া উঠছে, দূরে দাঁড়িয়ে কয়েকজন ফিলিস্তিনি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2025, 10:18 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:37 PM

ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজার প্রধান শহর গাজা সিটি পুরোপুরি দখল ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটি জানিয়েছে, তারা গাজা সিটিতে প্রাথমিক অভিযান ও হামলার প্রথম পর্ব শুরু করেছে। 

বুধবার এই অভিযান শুরুর আগে রিজার্ভে থাকা সেনাদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার জনকে ডেকে পাঠায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। একই সময় দেশটির সরকার প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ রাখতে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনির মুখপাত্র এফি ডিফ্রিন সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা গাজা সিটিতে হামলার প্রথম পর্ব ও প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছি। এখন ইতোমধ্যে আইডিএফ বাহিনী গাজা সিটির আশপাশ দখল করে নিয়েছে।” 

দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা এর আগে জানিয়েছিলেন, এ রিজার্ভ সেনারা সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু করবেন আর গাজা সিটিতে অভিযানে মূলত এখন যারা সামরিক বাহিনীতে সক্রিয় তাদেরই পাঠানো হবে।

ইসরায়েলি হামলায় নিহত স্বজনদের শোকে ফিলিস্তিনিদের আহাজারি। ছবি: রয়টার্স 

ইসরায়েলি হামলায় নিহত স্বজনদের শোকে ফিলিস্তিনিদের আহাজারি

রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে থাকা দূরত্ব পূরণ করতে মধ্যস্থতাকারীদের কিছুটা সময় দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বুধবার গাজায় হামাসের যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের সংঘর্ষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, ইসরায়েলি নেতা হামাসের ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে দ্রুত পরাজিত করার নির্দেশ দিয়েছে। 

ইসরায়েলি বিবৃতিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাদের এই অভিযানে আরও অনেক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হতে পারেন, আন্তর্জাতিকভাবে এমন সমালোচনা সত্ত্বেও তারা গাজার বৃহত্তম শহরের দখল নিতে নিজেদের পরিকল্পনা মতো এগিয়ে যাচ্ছে।  

ডিফ্রিন জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা ইতোমধ্যে গাজার আশপাশে অভিযানরত আছে আর হামাস এখন একটি ‘আঘাতপ্রাপ্ত ও ক্ষতবিক্ষত’ গেরিলা বাহিনী। 

তিনি বলেছেন, “আমরা গাজা সিটিতে হামাসের ওপর হামলা আরও তীব্র করবো। (এই শহরটি) সন্ত্রাসী সংগঠনটির সরকারি ও সামরিক সন্ত্রাসের ঘাঁটি।”  

গাজা সিটিতে হামলা শুরু করার পাশাপাশি ইসরায়েলি সরকার নতুন একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবও বিবেচনা করে দেখছে। 

রাতে চালানো হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি খতিয়ে দেখছে এক ফিলিস্তিনি পরিবার। ছবি: রয়টার্স 

রাতে চালানো হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি খতিয়ে দেখছে এক ফিলিস্তিনি পরিবার

হামাস টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, “গাজা শহরের নিরপরাধ বেসামরিকদের বিরুদ্ধে নৃশংস যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার জন্য নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বাধা সৃষ্টি করছে।”    

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি বলেছে, “নেতানিয়াহু মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব অবজ্ঞা করে প্রমাণ করেছেন যে কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে প্রকৃত বাধা তিনি।”  

চলতি মাসে নেতানিয়াহুর সভাপতিত্বে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা সিটি দখল করার লক্ষ্যে গাজায় সামরিক অভিযান বিস্তৃত করার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করে। যুদ্ধের প্রথমদিকে এই শহরটিতে ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের যোদ্ধাদের সঙ্গে ভয়াবহ নগর যুদ্ধে জড়িয়েছিল। ইসরায়েল এখন গাজা ভূখণ্ডের প্রায় ৭৫ শতাংশ দখল করে আছে।  

আরও পড়ুন: 

গাজা সিটিতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু