২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরও গাজায় হামলা

গাজায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে তাতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনাদের গাজা ছাড়ার কথা রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরও গাজায় হামলা
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে, ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর গাজা-ইসরায়েল সীমান্তের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Oct 2025, 11:17 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:26 PM

ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিমুক্তি চুক্তি অনুমোদন করার পরও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার খবর পাওয়া গেছে।

গাজা সিটির পূর্ব দিকে একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে শুক্রবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার হামলা চালায় বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। সেখানে কামানের গোলা ছোড়া হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। 

এর কিছুক্ষণ আগে গাজার দক্ষিণের খান ইউনিস এলাকায় বিমান হামলারও খবর মিলেছে, জানিয়েছে তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে ইসরায়েলি সরকার অনুমোদনের দেওয়ার পর প্রথম খান ইউনিসে ওই হামলা হয়।  

তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।  

এদিকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগে লোকজনকে গাজা সিটির সীমানা থেকে দূরে থাকতে বলেছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।  

বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, শুক্রবার প্রথম প্রহরে ইসরায়েলের সরকার যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিমুক্তি চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়ায় গাজায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংঘাত বন্ধের পথ খুলে গেছে। এরপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি জিম্মিদেরও মুক্তি পাওয়ার কথা।

মধ্যস্থতাকারীরা চুক্তির ঘোষণা দেওয়ারও প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিমুক্তি নিয়ে হামাসের সঙ্গে সমঝোতা অনুমোদন করল। 

গাজায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে তাতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনাদের গাজা ছাড়ার কথা রয়েছে।

“সরকার মাত্রই জীবিত-মৃত সব জিম্মির মুক্তির রূপরেখায় সায় দিয়েছে,” ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইংরেজি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে এমনটাই বলা হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধ ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করেছে, মধ্যপ্রাচ্যকে ওলট-পালট করেছে। এমন এক আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দিয়েছে যাতে ইরান, ইয়েমেন, লেবাননও জড়িয়ে পড়েছে। 

এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কেরও পরীক্ষা নিয়েছে। ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর ওপর ধৈর্যও হারাতে এবং চুক্তিতে পৌঁছাতে চাপ দিতেও দেখা গেছে।

চুক্তির ঘোষণা আসার পর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তুমুল উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। একে দুই বছরের যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ মনে করা হচ্ছে, যে যুদ্ধ এরইমধ্যে ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। 

হামাসের নির্বাসিত গাজাপ্রধান খলিল আল-হায়া বলেছেন, যুদ্ধ যে শেষ হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেয়েছেন।   

ইসরায়েলি সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, সরকারের সায় পাওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এই ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় আটকে থাকা জিম্মিদের মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। 

গাজায় থাকা জিম্মিদের মধ্যে ২০ জন এখনও জীবিত আছেন ও ২৬ জন মারা গেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। দুইজনের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও অজানা।

জীবিতদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হলেও মৃতদের দেহ উদ্ধারে ধারণার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে বলে আভাস দিয়েছে হামাস। 

বন্দি-জিম্মি বিনিময় কার্যকর হওয়ার মধ্যেই খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বহন করা অসংখ্য ট্রাকের গাজায় প্রবেশ করার কথা রয়েছে। এই সহায়তার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে গাজার লাখ লাখ মানুষ, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়ে যাদের বেশিরভাগই এখন বিভিন্ন তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। 

গাজার যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে মার্কিন সেনাবাহিনী ২০০ সেনার একটি টাস্কফোর্স মোতায়েন করবে বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজের একাধিক সূত্র, তবে ওই সেনারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির ভেতরে ঢুকবে না।