Published : 11 Feb 2025, 08:55 PM
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী রাফার কাছে গত সোমবার জাতিসংঘের একটি গাড়িতে হামলায় নিহত কর্মী ভারতীয় ছিলেন। ইসরায়েলের একটি ট্যাঙ্ক থেকে জাতিসংঘের ওই গাড়িতে গুলি চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংস্থটির একজন কর্মকর্তা।
বুধবার জাতিসংঘের উপ মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, একটি ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকে ওই গাড়ির পেছন দিকে গুলি চলানো হয়েছিল এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘের ‘বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই’। অথচ গাড়িতে স্পষ্ট করে ইউএন লেখা ছিল।
বলেন, “ঠিক কোনো পরিস্থিতিতে হামলার ওই ঘটনা ঘটেছে তা জাতিসংঘ জানতে চেয়েছে এবং এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
সোমবারের ওই হামলায় হতাহত দুইজনই ইউএন ডিপার্টমেন্ট অব সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি (ইউএনডিএসএস) এর সদস্য। জাতিসংঘ তাদের নিহত কর্মীর নাম প্রকাশ করেছে। তিনি হলেন ভারতীয় নাগরিক ৪৬ বছর বয়সী বৈভব অনিল কালে। তিনি ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। হামলায় আহত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে ২২ বছর কাজ করার পর বৈভব ২০২২ সালে কর্নেল হিসেবে অবসরে যান। এ বছর এপ্রিলে তিনি ইউএনডিএসএস এ যোগ দেন। গাজায় রাফা অঞ্চলে ইউএনডিএসএস এর নিরাপত্তা সমন্বয় কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দায়িত্বরত ছিলেন। মারা যাওয়ার মাত্র পাঁচ/ছয় সপ্তাহ আগে তিনি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানায় বিবিসি। এটাই ছিল তার প্রথম পোস্টিং।
সোমবার তিনি এক সহকর্মীকে নিয়ে রাফার কাছের ইউরোপিয়ান হসপিটাল পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন। পথে তাদের গাড়ি হামলার শিকার হয়।
কোন পরিস্থিতিতে বৈভব নিহত হন, তা উল্লেখ না করে জাতিসংঘে ভারতীয় মিশন থেকে বুধবার এক বিবৃতিতে বৈভবের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈভবদের গাড়িতে হামলার বিষয়ে যাবতীয় তথ্য জানতে ইউএনডিএসএস থেকে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলেও জানায় বিবিসি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে সোমবার বলা হয়েছিল, প্রাথমিক তদন্তে তারা এটা জানতে পেরেছে যে জাতিসংঘের গাড়িটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র দিয়ে যাচ্ছিল এবং যে পথ দিয়ে তারা যাচ্ছিল সেটি সম্পর্কে তারা ঠিকমত অবগত ছিল না।
জাতিসংঘ থেকে ইসরায়েলের এই ব্যাখ্যা উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, গাড়িতে স্পষ্ট করে ইউএন লেখা ছিল এবং তারা পরিকল্পনা করেই ইউরোপিয়ান হসপিটালের পথে রওয়ানা হয়েছিল। তাদের যাত্রার বিষয়ে আগেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।
বৈভবের নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর তার কাজিন চিন্ময় কালে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “বৈভব কালে একজন ভারতীয়। হামাস, ইসরায়েল বা গাজা যুদ্ধের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তারপরও তিনি শান্তির জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিলেন। তার এই আত্মত্যাগের পর গাজায় শান্তি অবশ্যই ফেরাতে হবে।”
কালের মৃত্যুই গাজায় জাতিসংঘের কোনো আন্তর্জাতিক কর্মী নিহত হওয়ার প্রথম ঘটনা।
এর আগে গত এপ্রিল মাসের শুরুতে ইসরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক খাদ্য দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন এর ছয় আন্তর্জাতিক ত্রাণ কর্মী এবং তাদের একজন ফিলিস্তিনি সহকর্মী নিহত হন।
যে ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল এবং আইডিএফ ভুল স্বীকার করে তাদের জ্যেষ্ঠ দুই সেনা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে।
নিজেরা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন হামলার শিকার হওয়ার পর গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
আরও পড়ুন