Published : 06 Sep 2025, 07:47 PM
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, গাজা সিটির বাসিন্দা ফিলিস্তিনিদের নগরীটি ছেড়ে দক্ষিণে চলে যাওয়া উচিত।
এমন এক সময়ে দেশটির সামরিক বাহিনী এ মন্তব্য করেছে যখন তাদের বাহিনীগুলো গাজা ভূখণ্ডের বৃহত্তম শহরটির আরও গভীরে ঢুকে পড়ছে, জানিয়েছে রয়টার্স।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শহরটি দখলে নেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীকে আদেশ দিয়েছেন। তারপর থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলীয় নগরীটির শহরতলীগুলোতে আক্রমণ চালাচ্ছে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা নগরী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ঘাঁটি, তাদের পরাজিত করতে হলে এটি দখল করা দরকার।
যুদ্ধ শুরুর আগে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রায় অর্ধেক এ শহরটিতে বসবাস করতো। তারপর থেকে দুই বছরে ধরে চলা যুদ্ধে বহু ফিলিস্তিনি শহরটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এখন যে কয়েক লাখ বাসিন্দা শহরটি আকড়ে পড়ে আছেন, তারা নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত হওয়ার হুমকির মধ্যে পড়েছেন।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র অভিচয় আদ্রি এক্সে লিখেছেন, গাজা সিটির বাসিন্দাদের উচিত নগরীটি ছেড়ে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের একটি নির্ধারিত উপকূলীয় এলাকায় চলে যাওয়া। যারা সেখানে চলে যাবে তারা ‘খাবার, চিকিৎসা ও আশ্রয় পাবে’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
ওই মনোনীত এলাকাটিকে ‘মানবিক অঞ্চল’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা নগরীটির প্রায় অর্ধেক দখল করে নিয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে, তারা পুরো গাজা ভূখণ্ডের প্রায় ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
যুদ্ধের প্রথমদিকেই গাজার বহু বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, পরে তারা শহরটিতে ফিরতে পেরেছিলেন। এখন আবার শহর ছাড়ার ইসরায়েলি আদেশের বিরোধিতা করেছেন তাদের অনেকে। তারা বলছেন, আবার বাস্তুচ্যুত হতে চান না তারা।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি বাহিনী নগরীটিতে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে এবং আশপাশের শহরতলী ধরে ভেতরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে বাহিনীটি গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধে ৬৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, ভূখণ্ডটির অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ইসরায়েলি অবরোধের কারণে ছিটমহলটিতে প্রায় দুর্ভিক্ষ অবস্থা বিরাজ করছে।