১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হড়পা বান: আমগাছ আঁকড়ে ধরে বেঁচে ফিরলেন শ্রমিক

“ভাগ্যক্রমে একটি আমগাছে আটকে যাই,” বলেন তিনি।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Aug 2026, 12:55 AM

Updated : 16 Sep 2026, 01:01 PM

নতুন তৈরি করা একটি বাড়ির বাইরে শৌচাগারের জন্য বুধবার সকালে গর্ত খুঁড়ছিলেন নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল; ঠিক সেসময় কাদা, পানি আর পাথরের এক ভয়াবহ স্রোত তার দিকে ধেয়ে আসে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় সবকিছু।

২৪ বছরের এ যুবক নেপালের হিমালয় সীমান্ত সংলগ্ন চীনের তিব্বতের কাছে রসুয়া জেলার বিদুরে কাজ করছিলেন।

তার সঙ্গে কাজ করা অন্য চার শ্রমিক পাঁচ ফুট গভীর গর্তের ওপরে ছিলেন, কুমাল ছিলেন ভেতরে। এসময় হঠাৎ গর্জন শুনতে পেয়ে অন্য শ্রমিকরা কুমালকে গর্ত থেকে উঠে এসে দৌড়াতে বলেন। কুমাল পড়িমরি করে উঠে এসেই দেখেন তার সঙ্গীরা দৌড়ে চলে গেছে।

কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারের বিছানায় বসে কথা বলছিলেন কুমাল, পাশে ছিলেন তার ভাই দিনেশ।

কুমাল বলেন, “আমি দৌড়াতে শুরু করি। বিকট শব্দে পেছন থেকে পানির বিশাল উঁচু ঢেউ চলে আসে। কাদা-পাথর ও ধ্বংসাবশেষের পানির তোড় আমাকে ভাসিয়ে নিচের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে আমি একটি আমগাছে আটকে যাই।

“আমগাছটি না থাকলে আমি ভেসে গিয়ে মারা যেতাম।”

বুধবার সকালে নেপালের ভয়াবহ এই হড়পা বানে এ পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু বিদেশি নাগরিকসহ কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

চীন ও তিব্বত সীমান্তের মধ্যবর্তী ভোতে কোশি নদী থেকে পানি নেমে আসে। নিচু এলাকায় নেমে আসা কাদা-পানির তোড় জনবসতি ও অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেয়।

সেখান থেকে বেঁচে ফেরা কুমাল বলেন, তিনি যখন আমগাছটি আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন, তখন নিজের চোখে সেই বাড়িটি বিলীন হয়ে যেতে দেখেন, যেখানে তিনি কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

পানির তোড় ও পাথরের আঘাতে তার ডান পা জখম হয়েছে। অন্য এলাকায় তার নিজের বাড়িটির কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।