১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সুইজারল্যান্ডকে টপকে বৈশ্বিক অফশোর সম্পদের শীর্ষে হংকং

সামান্য ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে পেছনে ফেলে হংকং এখন বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদের সবচেয়ে বড় নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডকে টপকে বৈশ্বিক অফশোর সম্পদের শীর্ষে হংকং
বিশ্বের শীর্ষ ‘ক্রস-বর্ডার’ বা আন্তর্জাতিক অফশোর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে হংকং।  ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 May 2026, 02:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:42 PM

চীনের সাথে দৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্কের সুবাদে সুইজারল্যান্ডকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ ‘ক্রস-বর্ডার’ বা আন্তর্জাতিক অফশোর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে হংকং। 

বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (বিসিজি) নতুন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো হংকং শীর্ষস্থান দখল করল এবং এশিয়ার অফশোর হাবগুলোর প্রবৃদ্ধির গতি ইউরোপের তুলনায় বেশি হওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে এই অবস্থানের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

গত বুধবার প্রকাশিত বিসিজি’র ‘২০২৬ গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট’ অনুযায়ী, চীন থেকে আসা বিপুল মূলধন এবং ২০২৫ সালে হংকংয়ের শেয়ার বাজারে আইপিও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং) বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের জোয়ারের ওপর ভর করে হংকংয়ের অফশোর সম্পদের পরিমাণ ২ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, এতদিন শীর্ষে থাকা সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক অফশোর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯৪ ট্রিলিয়ন ডলারে। সামান্য ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে পেছনে ফেলে হংকং এখন বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদের সবচেয়ে বড় নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনের লেখকরা উল্লেখ করেছেন, “বিশ্ববাজারের সঙ্গে চীনের সংযোগদ্বার বা গেটওয়ে হিসেবে হংকং নিজের অবস্থানকে আরও সুসংহত করছে।

“তবে চীনের ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে মূল ভূখণ্ডের অর্থনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পরিবর্তনের সাথে হংকংয়ের ভবিষ্যৎও গভীরভাবে জড়িয়ে থাকবে।”

বিসিজি’র পূর্বাভাস অনুযায়ী, হংকং এবং সিঙ্গাপুর উভয় কেন্দ্রই ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখবে। এর বিপরীতে একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের গড় প্রবৃদ্ধির হার হতে পারে ৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চাঙ্গা শেয়ার বাজার এবং ভৌগোলিক ভিন্নতার কারণে গত বছর বিশ্বজুড়ে ক্রস-বর্ডার বা অফশোর সম্পদের পরিমাণ ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এই বিপুল সম্পদের সিংহভাগই বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে জমা হওয়ায় অফশোর সম্পদ এখন নির্দিষ্ট কিছু হাবে আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে।

৯প্রবৃদ্ধির গতি তুলনামূলক ধীর হলেও সুইজারল্যান্ডের একটি বড় সুবিধা হলো তাদের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য। এশিয়ার হাবগুলো যেখানে প্রধানত চীনের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে সুইজারল্যান্ড বিশ্বের সব অঞ্চলের গ্রাহকদের আকর্ষণ করে থাকে।

বিসিজি’র মতে, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সুইজারল্যান্ড এখনো বৈশ্বিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে; যা মধ্যপ্রাচ্যের মতো যুদ্ধবিক্ষুব্ধ অঞ্চলগুলোর ধনকুবেরদের নিরাপদ আশ্রয় (ফ্লাইট-টু-সেফটি) হিসেবে কাজ করছে।

ব্যাংকার এবং আর্থিক উপদেষ্টারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চলমান পশ্চিম এশিয়া সংকটের প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক ধনী ব্যক্তি তাদের সম্পদ সুইজারল্যান্ডে স্থানান্তরিত করছেন।

প্রতিবেদনের সহ-লেখক মাইকেল কাহলিচস বলেন, “সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের কাছাকাছি থাকা বা ক্লায়েন্ট প্রক্সিমিটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বে সম্পদ ব্যবস্থাপনার দুটি প্রধান মেরু তৈরি হচ্ছে, এশিয়ার জন্য সিঙ্গাপুর ও হংকং এবং পশ্চিমা বিশ্বের জন্য সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

গ্রাহকদের কাছাকাছি থাকার এই প্রয়োজনীয়তার কারণে সুইজারল্যান্ডের বড় বড় ব্যাংকগুলো এখন অন্যান্য বড় হাবগুলোতে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়াচ্ছে।

কাহলিস উদাহরণ দিয়ে বলেন, “বর্তমানে সিঙ্গাপুর এবং হংকং উভয় জায়গাতেই সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এক নম্বরে রয়েছে সুইস ব্যাংক ইউবিএস।”