Published : 22 Apr 2026, 11:25 PM
২০২১ সালে মাঝ আকাশে দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষের নেপথ্যের ঘটনা সামনে এনেছে দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে যে, পাইলটরা মাঝ আকাশে ছবি তোলা ও ভিডিও রেকর্ড করতে ব্যস্ত থাকায় দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হয়।
সিউলের ‘বোর্ড অব অডিট অ্যান্ড ইনস্পেকশন’ বুধবার তাদের প্রতিবেদনে জানায়, যুদ্ধবিমান দুইটি কেন্দ্রীয় দায়েগু শহরে একটি ফ্লাইট মিশনে ছিল।
তবে সংঘর্ষ হলেও পাইলটরা আহত হননি। কিন্তু যুদ্ধবিমানের ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধবিমান মেরামতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে খরচ করতে হয়েছে ৮৮ কোটি ওন (৫ লাখ ৯৬ হাজার ডলার)।
ওই ঘটনার পর একজন পাইলট সামরিক বাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন। তবে এরপরও তাকে ৮ কোটি ৮০ লাখ ওন জরিমানা দিতে হয়েছে।
স্মৃতি ধরে রাখার মাসুল
‘বোর্ড অব অডিট অ্যান্ড ইনস্পেকশন’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানের পাইলট তার ইউনিটের সঙ্গে শেষ উড্ডয়ন স্মরণীয় করে রাখতে আগে থেকেই ছবি তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন।
এমনকি ফ্লাইটের আগের ব্রিফিংয়েও তিনি এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তখন পাইলটদের মধ্যে এ ধরনের চর্চা ‘ব্যাপক প্রচলিত’ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানঘাঁটিতে ফেরার সময় উইংম্যান যুদ্ধবিমানের পাইলট তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন দিয়ে ছবি তুলতে শুরু করেন।
তা দেখে সামনের ‘লিড’ বিমানের পাইলটও তার বিমানে থাকা অন্য এক কর্মকর্তাকে উইংম্যান বিমানটির ভিডিও করতে বলেন।
ভিডিওতে নিজেকে ভালোভাবে তুলে ধরতে উইংম্যান পাইলট হঠাৎ করে তার এফ-১৫কে জেটটি কাত করে ওপরে তুলে আনেন।
এ সময় দুটি বিমান একে অপরের অত্যন্ত কাছে চলে আসে। সংঘর্ষ এড়াতে সামনের বিমানটি দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
লিড বিমানের বাম ডানা এবং পেছনের বিমানের লেজের ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশটি (টেইল স্ট্যাবিলাইজার) ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে পাইলটরা কোনও আঘাত ছাড়াই বিমান দুটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।
জরিমানা নিয়ে আইনি লড়াই
দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত উইংম্যান পাইলটকে সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি একটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসে কর্মরত।
বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রথমে তার কাছে মেরামতের পুরো ৮৮ কোটি ওন দাবি করা হয়েছিল। পাইলট এর বিরুদ্ধে আপিল করলে অডিট বোর্ড তদন্ত শুরু করে।
পাইলট তার ভুলের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন যে, সামনের বিমানের পাইলটও ভিডিও করার বিষয়ে জানতেন এবং তার ‘মৌন সম্মতি’ ছিল।
অডিট বোর্ড শেষ পর্যন্ত তাকে মেরামতের মোট ব্যয়ের মাত্র ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৮ কোটি ৮০ লাখ উয়ন জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছে।
বোর্ড তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, পাইলটদের ব্যক্তিগত ক্যামেরা বা মুঠোফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম জারি না করায় বিমানবাহিনীরও কিছুটা দায় রয়েছে।
তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পাইলটদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।