কাতারে বেঁচে গেলেও ইসরায়েল পরে হামাস নেতাদের হত্যা করবেই, বললেন দূত
কাতার গাজায় যুদ্ধবিরতি অর্জনের লক্ষ্যে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতা করছিল; যে কারণে দোহায় ইসরায়েলি হামলা এমনকী তেল আবিবের মিত্রদের কাছেও বেশ সংবেদনশীল বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
হামাস নেতাদের হত্যায় কাতারে ইসরায়েলি বিমান হামলা যদি ব্যর্থ হয়ও, তেল আবিব ঠিকই পরেরবার সফল হবে, দোহায় আচমকা অভিযানের পর এমনটাই বলেছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত জেখিল লেইতের।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের এ হামলা গাজায় যুদ্ধবিরতি অর্জনের চেষ্টা পুরোপুরি ভণ্ডুল করে দিয়েছে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
“এখন হয়তো আমরা খানিকটা সমালোচনার মুখে আছি। তবে এটা শেষ হয়ে যবে। ইসরায়েল আরও ভালোর জন্য পরিবর্তিত হচ্ছে,” মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট’ অনুষ্ঠানে লেইতের এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েল হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যার চেষ্টায় কাতারের রাজধানী দোহায় বিমান হামলা চালায়।
তাদের এ হামলা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একতরফা এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি স্বার্থকে এগিয়ে নেবে না, বলেছে ওয়াশিংটন।
এর আগে সোমবার জেরুজালেমের শহরতলিতে এক বাসস্টপে বন্দুক হামলায় ৬ জন নিহতের ঘটনায় হামাস দায় স্বীকার করে নিয়েছিল।
কাতার গাজায় যুদ্ধবিরতি অর্জনের লক্ষ্যে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতা করছিল; যে কারণে দোহায় ইসরায়েলি হামলা এমনকী তেল আবিবের মিত্রদের কাছেও বেশ সংবেদনশীল বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
‘আমরা যদি তাদের এবার না মারতে পারি, পরবর্তীতে মারবো,” বলেছেন লেইতের।
হামাস জানিয়েছে, মঙ্গলবারের হামলায় তাদের ৫ সদস্য নিহত হয়েছে। এর মধ্যে তাদের গাজাপ্রধান ও শীর্ষ আলোচক খলিল আল-হায়ার ছেলেও আছে।
তবে ইসরায়েলি হামলায় তাদের শীর্ষ নেতারা বেঁচে গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি এ সশস্ত্র সংগঠন।
হামলায় কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যও নিহত হয়েছে। ইসরায়েল বিশ্বাসঘাতক এবং ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে’ জড়িত, বলেছে দোহা।
সংহতি দেখাতে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান কাতার গেছেন বলে জানিয়েছে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম।
জর্ডানের ক্রাউন প্রিন্স হুসেনেরও বুধবার কাতার যাওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকেও বৃহস্পতিবার কাতারে দেখা যেতে পারে বলে বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনও উগ্রবাদী ইসরায়েলি মন্ত্রিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের চুক্তির অধীনে থাকা বাণিজ্য বিষয়ক কর্মকাণ্ড স্থগিতের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন।
গাজায় ইসরায়েলের লাগামহীন হামলা নিয়ে ইউরোপজুড়ে সমালোচনা যে ক্রমশই বাড়ছে এবং তা জোটের নির্বাহীদের ওপর ব্যাপক চাপও সৃষ্টি করছে এসব প্রস্তাবে সেটাই প্রতীয়মান হচ্ছে।
ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর সমর্থক জার্মানি জানিয়েছে, তারা ইউরোপীয় কমিশনের এসব প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভবিষ্যতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনায় জার্মানিও অংশ নেবে বলে বুধবার জানিয়েছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাদেফুল।
স্পেন তাদের বন্দর ও আকাশসীমায় ইসরায়েলে অস্ত্র নিয়ে যাওয়া জাহাজ ও বিমানের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। একে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ অভিহিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।
ওয়াশিংটনের এ অবস্থান নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মুখপাত্রের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
