গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে রাশিয়ার কোনো উদ্বেগ নেই: পুতিন
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় প্রেসিডেন্ট পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগে মস্কো আপত্তি জানাবে না বলেই সংকেত দিয়েছেন।
গ্রিনল্যান্ড দখল করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকি-ধামকির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
তিনি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা কার হাতে থাকবে না থাকবে তা নিয়ে রাশিয়ার কোনও মাথাব্যথা নেই। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের নিজেদের মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত।
বুধবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় পুতিন একথা বলেন। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগে রাশিয়া আপত্তি জানাবে না বলেই সংকেত দিয়েছেন তিনি।
পুতিন ধারণা দেন, গ্রিনল্যান্ডের মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার হতে পারে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডে কী ঘটছে না ঘটছে তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র উদ্বেগ নেই।”
“ডেনমার্ক ঐতিহাসিকভাবেই গ্রিনল্যান্ডকে একটি ‘উপনিবেশ’ হিসেবে গণ্য করে এসেছে এবং তাদের প্রতি বেশ কঠোর, এমনকি ‘নিষ্ঠুর’ আচরণও করেছে। তবে সেটি ভিন্ন বিষয়, এবং এখন আর তাতে তেমন কারও আগ্রহ নেই।”
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের চেষ্টা ইউরোপের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিভাজন বাড়াচ্ছে। আর তা বেশ খুশিমনেই প্রত্যক্ষ করছে রাশিয়া।
যদিও গ্রিনল্যান্ডে কিছু ঘটলে এর প্রভাব রাশিয়ার ওপরও পড়তে পারে, কারণ আর্কটিক অঞ্চলে দেশটির শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।
বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন এবং বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেন।
তিনি বলেন, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ এই ভূখণ্ড নিয়ে চলমান বিরোধ মেটাতে চুক্তির দিকে অগ্রগতি হচ্ছে।
ইউক্রেইন যুদ্ধে ডেনমার্কের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়া নিয়ে রাশিয়া ক্ষুব্ধ। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, বিপুল সম্পদসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড দ্বীপ ডেনমার্কের প্রাকৃতিক অংশ নয়।
ওদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৮৬৭ সালে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৭২ লাখ ডলারে আলাস্কা বিক্রি করেছিল। একইভাবে ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক ওয়াশিংটনের কাছে ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ বিক্রি করেছিল, যা এ ধরনের ভূখণ্ড হস্তান্তরের নজির হয়ে আছে।
পুতিন আরও বলেন, “ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনে নিতে হলে এই দ্বীপের দাম হতে পারে ১ শ কোটি ডলার। আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। আমি মনে করি তারা নিজেদের মধ্যেই বিষয়টি মীমাংসা করে নেবে।”
