২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
আইনের শাসনের বদলে দলীয় আনুগত্য যখন রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন রাষ্ট্র বনাম জনগণের দ্বন্দ্ব অনিবার্য হয়ে ওঠে—বাংলাদেশ তারই উদাহরণ।
জরাথুস্ট্রীয় দ্বৈতবাদ মানব সভ্যতাকে একধরনের নৈতিক সংহতির কাঠামো দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটি বিশ্ববাস্তবতার জটিলতা ও পরিবর্তনশীলতাকে প্রায়শই উপেক্ষা করেছে। বহু ধর্ম ও দর্শন এই দ্বৈত কাঠামোকে প্রশ্ন করে, এমনকি ভেঙে দেয়।
শারীরিক আক্রমণ চোখে দেখা যায়, কিন্তু এমন এক সহিংসতা আছে যা দৃশ্যমান নয়—তবুও তার ক্ষত আরও গভীর। এটাই জ্ঞানতাত্ত্বিক সহিংসতা। বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা দীর্ঘদিন ধরেই এই অদৃশ্য সহিংসতার শিকার।
বাংলাদেশেও নৈতিক কোতোয়ালির প্রচুর দৃষ্টান্ত আছে। হিজাব পরা-না পরা, প্রেমিক-প্রেমিকার রাস্তায় হাঁটা, রাতের বেলায় মেয়েদের বাইরে থাকা—এসব নিয়ে জনতার ‘নৈতিক তদারকি’ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রিটিশ উপনিবেশ শুধু বন্দুক আর বাণিজ্যের ওপর গড়ে ওঠেনি—এটা ছিল চেতনার ওপর চাপানো শাসনের সূক্ষ্ম নকশা। সমদর্শনের চোখে গড়ে তুলেছিল এক অদৃশ্য কারাগার, যার প্রভাব আজও আমাদের মধ্যে বিদ্যমান।