২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

আইফোন ডুও’র স্ক্রিন ফাটার নেপথ্যে কাঠামোগত ত্রুটি ও ধুলাবালি

দুই হাজার ডলারের অ্যাপলেল ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসটি বিক্রির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর স্ক্রিন ফেটে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আইফোন ডুও’র স্ক্রিন ফাটার নেপথ্যে কাঠামোগত ত্রুটি ও ধুলাবালি

এর আগে, অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বী নির্মাতা কোম্পানি স্যামসাং ও গুগলের ফোল্ডএবল ফোনগুলোতেও এ ধরনের সমস্যার তথ্য মিলেছিল। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Oct 2026, 02:06 PM

Updated : 27 Oct 2026, 02:06 PM

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডএবল ফোন আইফোন ডুও কেনার পর এর হিঞ্জ বা জয়েন্ট নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকদের একাংশ।

দুই হাজার ডলারের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসটি বিক্রির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্ক্রিন ফেটে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে ‘ক্র্যাকগেট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

রেডিটে এক ভুক্তভোগী লিখেছেন, “ফোনটি হয়ত চারবারের মতো ভাঁজ করেছিলাম। হঠাৎ হিঞ্জটি শক্ত হয়ে যায় ও জোর দিয়ে খুলতে গেলেই বেশ জোরে একটা শব্দ হয়।”

অনলাইনে আরও বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেছেন, ফোনটি ভাঁজ করার সময় হঠাৎ শব্দ হয়, এরপর হিঞ্জ বরাবর স্ক্রিন ফেটে যায় ও ডিসপ্লের একাংশ জুড়ে উজ্জ্বল দাগ দেখা দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার এক আইফোন ডুও গ্রাহক লিখেছেন, “কেবল ছয় ঘণ্টার মতো ফোনটি ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিলাম এবং ২০ বারের কম হয়ত এটা খোলা হয়েছে।

“বন্ধুকে দেখানোর সময় স্ক্রিনের নিচে হিঞ্জের জায়গায় কিছু একটা আটকে যাওয়ার অনুভূতি পাই। ফোনটি খোলার চেষ্টা করতেই কড়কড় শব্দ হয়ে হিঞ্জ বরাবর পুরো স্ক্রিনটি ভেঙে যায়।”

পরবর্তীতে ওই গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত ফোনটি অ্যাপল স্টোরে নিয়ে গেলে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তাকে একটি সম্পূর্ণ নতুন ফোন দেওয়া হয়।

অভিযোগ ও এ সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি অ্যাপল।

জনপ্রিয় মেরামতকারী সাইট ‘আইফিক্সইট’-এর তথ্য অনুসারে, আইফোন ডুও’র হিঞ্জ মেকানিজমে ময়লা ও ধুলাবালি প্রবেশ করার কারণে এ ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

স্মার্টফোনটি খুড়ে বা টিয়ারডাউন করে করা এক বিশ্লেষণে আইফিক্সইট বলেছে, “ভাঁজ করার ফলে কোথায় চাপ তৈরি হয় তা দেখতে আমরা টিয়ারডাউন ফুটেজ, পেটেন্ট ও সিটি স্ক্যান থেকে একটি থ্রিডি হিঞ্জ মডেল তৈরি করেছি এবং ব্যবহারকারীদের ফোনের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখেছি।

“ফ্লেক্স কেবলের ক্রসিং গ্যাপ থেকে কেন্দ্রীয় হিঞ্জ সাপোর্টের মধ্যবর্তী স্থানে এসব ভাঙনের ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। এই জায়গায় অনেকগুলো কোণ একসঙ্গে মিলিত হওয়ায় সম্ভাব্য কারণের শেষ নেই।

“এর একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, আমাদের সিমুলেশনে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় সাপোর্ট বারটি নিচে পর্যাপ্ত পরিমাণে নামতে পারে না। ফলে স্ক্রিনের বাঁকা ভাঁজটি সরাসরি এর ওপর এসে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কাছাকাছি একটি ছোট স্ট্রেস হটস্পট তৈরি করে।”

এ ছাড়া, আইফিক্সইট একটি পরীক্ষাও করেছে, যেখানে একটি আইফোন ডুও ফ্লুরোসেন্ট পাউডারের ব্যাগে রেখে ডিভাইসটি বারবার খোলা ও বন্ধ করা হয়।

আইফিক্সইট বলেছে, পাউডার কণাগুলো হিঞ্জের চলমান অংশগুলোতে পৌঁছানোর পরপরই ‘হিঞ্জ থেকে কটকট শব্দ হতে শুরু করে’।

এর আগে, অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বী নির্মাতা কোম্পানি স্যামসাং ও গুগলের ফোল্ডএবল ফোনগুলোতেও এ ধরনের সমস্যার তথ্য মিলেছিল।

কোম্পানিটির বহুল প্রতীক্ষিত আইফোনটি বাজারে ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। শুক্রবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অ্যাপল স্টোরের বাইরেও ফোনটি কিনতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

বাজারে আসার আগে অ্যাপল বলেছিল, আইফোন ডুও’র চাহিদা রয়েছে ‘অসাধারণ পর্যায়ের’। নতুন পণ্যটি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।