মহাকাশ অভিযান নিয়ে নিজেদের ভাবনা জানাল শিশুরা
অনুষ্ঠানে মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাস, ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তি ও মানবজাতির মহাকাশে নতুন বসতি তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছে শিশুরা।
শিশুদের মধ্যে মহাকাশ সম্পর্কিত কৌতূহল, সৃজনশীল চিন্তা ও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ছড়িয়ে দিতে সফলভাবে একটি মিট-আপ সম্পন্ন করেছে স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প।
‘রাইজ আপ ল্যাবস’-এর সহায়তায় আয়োজিত ‘ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ’ নামের এ ব্যতিক্রমধর্মী মিট-আপে অংশ নিয়েছে ছয় থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা। এতে মহাকাশবিজ্ঞান বিষয়ক নানা ধারণা, প্রশ্ন, গল্প ও গবেষণাভিত্তিক বক্তব্য তুলে ধরেছে অংশগ্রহণকারীরা।
অনুষ্ঠানে প্রতিটি শিশু সৌরজগৎ, গ্রহ-তারা, চাঁদ ও মঙ্গল অভিযান, রকেট প্রযুক্তি, নভোচারীদের জীবনযাপন, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস, স্যাটেলাইট, ব্ল্যাক হোল, ধূমকেতু ও পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের মতো জটিল বিষয়গুলোর ওপর প্রায় ৫ মিনিটের উপস্থাপনা দিয়েছে।
পাশাপাশি মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাস, ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তি ও মানবজাতির মহাকাশে নতুন বসতি স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের ভাবনার কথা বলেছে শিশুরা।
অনেক অংশগ্রহণকারী তাদের নিজস্ব কল্পনা ও প্রাথমিক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি ভবিষ্যতের মহাকাশযান, চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের মতো রোমাঞ্চকর ধারণা উপস্থাপন করেছে।
এসব উপস্থাপনাকে দর্শক ও বিচারকদের সামনে প্রাণবন্ত ও সহজবোধ্য করে তুলতে শিশুরা নানারকম ছবি, পোস্টার, হাতে তৈরি মডেল ও ভিজুয়াল উপাদান ব্যবহার করেছে।
প্রতিটি উপস্থাপনার শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত দর্শক, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বিভিন্ন জটিল প্রশ্নের বিচক্ষণ ও সাবলীল উত্তর দিয়ে খুদে অংশগ্রহণকারীরা।
মূল উপস্থাপনা পর্বের শেষে হয়েছে মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব, যেখানে শিশুরা মহাকাশের নানা অজানা রহস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সরাসরি মতামত বিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে।
‘রাইজ আপ ল্যাবস’-এর সার্বিক সহায়তায় অনুষ্ঠিত এ মিট-আপে শিশুদের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষার প্রতি মৌলিক আগ্রহ তৈরি, কৌতূহল জাগানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও নভোচারী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়েছে।
আয়োজনের বিষয়ে ‘স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প’ বলেছে, “ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ’ কেবল সাধারণ উপস্থাপনা অনুষ্ঠান নয়, বরং শিশুদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, গবেষণামনস্কতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাধারাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিকশিত করার নিরবচ্ছিন্ন উদ্যোগ।”
ভবিষ্যতেও দেশের প্রতিটি প্রান্তে এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেছে ‘স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প’।
