০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শত শত কোটি ডলার আয় করেছি: ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প

ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবির মধ্যে রয়েছে ইরানের পরাজয়ের কাল্পনিক দৃশ্য, প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘোড়ায় চড়ে থাকা অবস্থায় তার ছবি ও অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোর এআই দিয়ে তৈরি ছবি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শত শত কোটি ডলার আয় করেছি: ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প
আরেক এআইনির্মিত ছবিতে হরমুজ প্রণালীকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ও অন্যটিতে নিউ মেক্সিকোকে ‘নিউ আমেরিকা’ বানিয়েছেন তিনি। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 11:41 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:32 PM

সামাজিক মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্মিত ছবির জোয়ার বইয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্টক ও অন্যান্য সম্পদ থেকে শত শত কোটি ডলার আয়ের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে একের পর এক এআইনির্মিত ছবি ও বেশ কিছু অপ্রমাণিত দাবি পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্টক ও অন্যান্য সম্পদ বা হোল্ডিংস থেকে শত শত কোটি ডলার আয়ের এ বড় দাবি।

আশি বছর বয়সি মার্কিন কমাণ্ডার ইন চিফ প্ল্যাটফর্মটিতে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করে এ ধরনের ডজনখানেক এআইনির্মিত ছবি পোস্ট করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আরেমিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।

তার পোস্ট করা ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরাজয়ের কাল্পনিক এক দৃশ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘোড়ায় চড়ে থাকা অবস্থায় ট্রাম্পের ছবি ও অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোর এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি, যেখানে তাকে ‘ট্রাম্প ইজ মাই প্রেসিডেন্ট’ লেখা শার্ট ধরে থাকতে দেখা গেছে।

ভাইরাল হওয়া ট্রাম্পের তৈরি এক এআই ছবিতে দেখা গেছে, হোয়াইট হাউসে বেশ কয়েকটি মনিটরের সামনে বসে স্টক মার্কেট পর্যবেক্ষণ করছেন প্রেসিডেন্ট।

ছবিটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “এ কাজ আমি আমার দেশের জন্য করি, নিজের জন্য নয়। আমি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্টক ও অন্যান্য বহু ধরনের হোল্ডিংস থেকে শত শত কোটি ডলার আয় করেছি, নিজের জন্য নয়। অথচ উগ্র বামপন্থী ‘ডুমোক্রেটদের’ কাছ থেকে কেবল সমালোচনা পাচ্ছি। খুবই অন্যায়, কিন্তু কী আর করা!”

পোস্টটিতে এ দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা না হলেও ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের অগাস্টে সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট ইনটেলের ১০ শতাংশ শেয়ার কিনেছিল, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৫ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

এর আগে, ‘ট্রুথ এপিআই’ চালুর কারণেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প, যা ট্রুথ সোশালের মাসিক ১ লাখ ডলারের এক প্রিমিয়াম ফিচার। এর মাধ্যমে আর্থিক বাজারকে ওঠানামা করাতে পারে এমন নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ঘোষণা আগেভাগে পাওয়া যায়।

ট্রুথ সোশালের মূল কোম্পানি ‘ট্রাম্প মিডিয়া’ প্রচলিত ফেডারেল সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করছে কি না তা খতিয়ে দেখতে জুলাইয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সেনেটররা।

চলমান মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগেও বহুবার এআইনির্মিত কনটেন্ট পোস্ট করেছেন। এর মধ্যে এক আলোচিত পোস্টে তাকে ব্যাকগ্রাউন্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও হাতে বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যেখানে ক্যাপশনে বড় অক্ষরে লেখা ছিল, “নো মোর মিস্টার নাইস গাই!”

এসব ছবি ও পোস্টের পেছনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাড়া পায়নি সিএনবিসি।

ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরু করার পর ছয় মাসের বেশি পেরিয়ে গেছে। আলোচনার টেবিলে ফেরার প্রস্তুতি কোনো পক্ষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে না।

সোমবার ট্রুথ সোশালে ইরান ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দৃশ্য সম্বলিত ডজনখানেক এআইনির্মিত ছবি ও এর অর্থনীতি নিয়ে কোনো ধরনের যাচাই উৎস ছাড়া বেশ কিছু ইনফোগ্রাফ শেয়ার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ট্রাম্পের পোস্ট করা অবাস্তব ও প্রমাণহীন এক চার্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানের মুদ্রা ‘ধ্বংস হয়ে গেছে’, আর অন্য এক মানচিত্রে দেশটির ওপর বড় করে লেখা ছিল, ‘ইরান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র’।

এআইনির্মিত ছবিতে দেখা গেছে, যুদ্ধজাহাজের ডেক থেকে দাঁড়িয়ে কয়েকটি জাহাজে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখছেন ট্রাম্প। অন্য এক ছবিতে তাকে ইরানের মানচিত্রের ওপর আমেরিকার পতাকা খচিত হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।

যুদ্ধের ফলে ইরানের জিডিপি কমেছে ও দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হলেও দেশটি অর্থনৈতিক পতনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে আছে এমন অনুমানের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সতর্কতার তাগিদ দিয়েছেন।

বীরত্বপূর্ণ চরিত্রে ট্রাম্প

আমেরিকার ত্রাতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরে অ্যাকশন হিরোর আদলে বেশ কিছু এআই ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প, যার মধ্যে কিছু ছবিতে তাকে ভবিষ্যতের রোবট পরা এমন এক নেতা হিসেবে দেখানো হয়েছে, যার ব্যাকগ্রাউন্ডে মার্কিন ক্যাপিটল ভবন রয়েছে।

অন্যান্য ছবিতে তাকে লাল রঙের ‘মাগা’ টুপি পরা ও গায়ে মার্কিন পতাকা জড়ানো হাল্ক হোগান ধাঁচের একজন রেসলার হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আরেকটি ছবিতে তাকে ‘স্পেস ফোর্স কমান্ড সেন্টার’-এর প্রধান হিসেবে দেখা গেছে।

আমেরিকান আধিপত্য

‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ব্র্যান্ড গড়ে তোলা ট্রাম্প দেশে ও বিদেশে মার্কিন প্রভাব পুনরায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

তার এআই ছবি প্রকাশের এ ঝড়ে এমন কিছু ছবিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে বিভিন্ন দেশ, ভূখণ্ড এবং প্রাকৃতিক ও মহাকাশীয় ল্যান্ডমার্ককে মার্কিন সম্পত্তি বা অঞ্চল হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।

আরেক এআই ছবিতে হরমুজ প্রণালীকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে এবং অন্যটিতে নিউ মেক্সিকোকে ‘নিউ আমেরিকা’ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরেকটি পোস্টে চাঁদকে মার্কিন পতাকার পাশে রেখে তার গায়ে লেখা হয়েছে, ‘চাঁদ আমাদের’। অন্য এক পোস্টে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী অন্টারিও হ্রদকে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে লেবেল দিয়েছে।

এর আগে, ফেডারেল সরকারকে হ্রদটির নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়ে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প।

এর জবাবে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি বলেছিলেন, তাদের দেশ হ্রদটিকে ‘লেক অন্টারিও’ নামেই ডাকবে।

আরও পড়ুন…

এবার অ্যাপলের ম্যাপেও বদলাল লেক অন্টারিওর নাম

গুগলের ম্যাপে লেক অন্টারিওর নাম বদলে এখন 'লেক আমেরিকা'