১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

২০৩০ সালের মধ্যে চন্দ্রাভিযানের ঘোষণা দক্ষিণ কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়া যখন কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও প্রবৃদ্ধির শ্লথগতির মতো চ্যালেঞ্জের মুখে ঠিক তখনই উদীয়মান এসব প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা নিল দেশটি।

২০৩০ সালের মধ্যে চন্দ্রাভিযানের ঘোষণা দক্ষিণ কোরিয়ার
প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর সভাপতিত্বে ব্লু হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে এ কৌশলগত উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2026, 07:25 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

২০৩০ সালের মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তিতে চাঁদে অবতরণ ও ২০২৯ সালের মধ্যে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

সেমিকন্ডাক্টর ও এআই খাতের বাইরে গিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে পারমাণবিক শক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও মহাকাশ গবেষণাসহ সাতটি কৌশলগত খাতে মেগা প্রকল্প ঘোষণা করেছে দেশটি।

রয়টার্স লিখেছে, ‘সেভেন মেজর সিড’ নামের এই উদ্যোগের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তিতে চাঁদে অবতরণ ও ২০২৯ সালের মধ্যে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।

মহাকাশ গবেষণা ও বায়োটেকনোলজির মতো কৌশলগত খাতগুলোকে কেন্দ্র করে বুধবার এই রোডম্যাপ উন্মোচন করে দক্ষিণ কোরিয়া।

প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর সভাপতিত্বে ব্লু হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে এ কৌশলগত উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৯ সালের মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ১০০-কিউবিট কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণ ও ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তির ‘স্মল মডিউলার রিয়্যাক্টর’ বা এসএমআর ও ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেইস পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লি বলেছেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতের গতি ও এআইয়ের দ্রুত প্রসারের ফলে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তা ব্যবহার করেই দেশকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

“আজকে আমরা যে সাতটি সিড প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছি, এগুলোই হবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি ও জাতীয় সুরক্ষার মূল কৌশলগত সম্পদ।”

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বে কিয়ং-হুন বলেছেন, এ উদ্যোগের আওতায় এসএমআর, ফিউশন এনার্জি, নতুন প্রজন্মের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কোয়ান্টাম টেকনোলজি, মহাকাশ ও প্লেন চলাচল, আধুনিক বায়োটেকনোলজি এবং সংকটপূর্ণ খনিজ ও কাঁচামালের সরবরাহ চেইন সুরক্ষিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া যখন কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও প্রবৃদ্ধির শ্লথগতির মতো চ্যালেঞ্জের মুখে ঠিক তখনই উদীয়মান এসব প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা নিল দেশটি।

প্রযুক্তিগত এই সক্ষমতাকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞান মন্ত্রী বে কিয়ং-হুন বলেছেন, “আমরা এসব সিডকে অঙ্কুরিত হতে সাহায্য করব, যাতে আগামী ১০ বা ২০ বছরের মধ্যে এমন এক দক্ষিণ কোরিয়া গড়ে ওঠে, যাকে কারও পক্ষে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব হবে না।”

কোন খাতে কী লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়ার?

দক্ষিণ কোরিয়ার ঘোষিত নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার অধীনে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘স্মল মডিউলার রিয়্যাক্টর’ বা এসএমআর বাণিজ্যিকীকরণের পাশাপাশি ২০৩০-এর দশকে ‘নন-লাইট-ওয়াটার’ এসএমআর নির্মাণ শুরুর লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া, ২০৩০-এর দশকের শেষদিকে পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

সরকার বলছে, পরিবেশবান্ধব শক্তি খাতের অংশ হিসেবে অতি-উচ্চ সক্ষমতার সৌরকোষ, উন্নত প্রযুক্তির অফশোর উইন্ড বা সামুদ্রিক বায়ুবিদ্যুৎ, হাইড্রোজেন উৎপাদন ব্যবস্থা ও এআইনির্ভর পাওয়ার-গ্রিড প্রযুক্তি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে ২০২৯ সালের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ১০০-কিউবিট কোয়ান্টাম প্রসেসর তৈরি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ কোয়ান্টাম-চিপ নির্মাতা দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার।

মহাকাশ কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালে চাঁদে অবতরণের নিজস্ব মিশন পরিচালনা, ২০৩২ সালে দ্বিতীয় চন্দ্রাভিযান ও ২০৩৫ সালের মধ্যে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে নিজস্ব স্যাটেলাইট যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি স্পেস ডেটা সেন্টার বা মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার সংক্রান্ত প্রযুক্তি বিকাশ ও নতুন প্রজন্মের বাণিজ্যিক প্লেন উৎপাদন কর্মসূচিতে কোরিয়ান বিভিন্ন কোম্পানির অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সহায়তা দেওয়া হবে।

বায়োটেকনোলজি খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এআই-বায়ো’ অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা ও ২০৩৫ সালের মধ্যে ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেইস পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ করার কথা বলেছে দেশটি। পাশাপাশি এআইচালিত ওষুধ উদ্ভাবন, স্বয়ংক্রিয় গবেষণাগার এবং আধুনিক জিন ও সেল থেরাপির বিকাশে জোর দেওয়া হবে।

কৌশলগত খনিজ ও কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা চাঙ্গা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পুনর্ব্যবহার সুবিধা সম্প্রসারণ, জরুরি মজুত বৃদ্ধি, কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্র বহুমুখীকরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে গবেষণা ও প্রযুক্তিতে ৭১০ কোটি ডলার বিনিয়োগেরও ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

নিয়ন্ত্রণমূলক আইনকানুন সহজ করে প্রযুক্তিগুলোর দ্রুত বাণিজ্যিকীকরণে একটি সরকারি-বেসরকারি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট লি বলেছেন, “আমরা অসীম সম্ভাবনা উপভোগ করা শীর্ষ নেতৃত্ব হব, নাকি পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি নেওয়া অনুগামী হব তা নির্ভর করছে আমাদের আজকের সিদ্ধান্তের ওপর।”