২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

জি২০: এআই নিয়ন্ত্রণে শিথিল নীতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিশ্বের শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোর অনেকগুলোর চিন্তার সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে। এসব কোম্পানির প্রায় সবই যুক্তরাষ্ট্রের।

জি২০: এআই নিয়ন্ত্রণে শিথিল নীতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
ভিডিওর মাধ্যমে বৈঠকে বক্তব্য দেন মেটার মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Sep 2026, 03:09 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:30 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন করে বিস্তৃত আইন না করে নির্দিষ্ট নতুন পরিস্থিতি নিয়ে নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যক্তি ও বাণিজ্যমন্ত্রীদের নিয়ে জি২০ বৈঠক আয়োজিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ক্র্যাটসিওস দেশগুলোকে ‘ক্যারোলাইনা নীতিমালা’ গ্রহণের আহ্বান জানান বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিশ্বের বড় এআই কোম্পানিগুলোর অনেকগুলোর চিন্তার সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে। এসব কোম্পানির প্রায় সবই যুক্তরাষ্ট্রের। কোম্পানিগুলো দ্রুত বাড়তে থাকা ব্যবসার জন্য বিশ্বজুড়ে কম নিয়ন্ত্রণ চায় অথবা নতুন নিয়ম তৈরির সময় সেগুলোকে নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করতে চায়।

দুই দিনের বৈঠকের সহ-আয়োজক ক্র্যাটসিওস বলেন, এতে সই করা দেশগুলো এআইয়ের জন্য একেবারে নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরি না করে প্রযুক্তিটির সঙ্গে যুক্ত ‘নতুন ধরনের’ পরিস্থিতি নিয়ে নীতিমালা তৈরিতে মনোযোগ দেবে।

ক্র্যাটসিওস বলেন, “নীতিনির্ধারকদের প্রতিটি উদ্ভাবনকে আলাদাভাবে বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই এবং প্রতিটি নতুন প্রযুক্তিকে একেবারে নতুন ধরনের নীতিগত সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়।”

ক্র্যাটসিওস জানান, চীন সরকারও এই নীতিমালায় সই করেছে। তবে তিনি নথিটির কোনো কপি সাংবাদিকদের দেননি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এআই খাতের মুনাফায় প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন মডেল প্রকাশের গতি কমে গেলে বা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কোম্পানিগুলোকে পণ্যের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হলে ব্যবসায়িক ক্ষতি হতে পারে।

বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেন প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমন্ত্রী ইন হেজুন। ক্র্যাটসিওস সাংবাদিকদের বলেন, চীনা প্রতিনিধির সঙ্গে তার “দারুণ” দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে।

শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের বক্তব্য

বুধবারের বৈঠকে অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা টম ব্রাউন বক্তব্য দেবেন বলে কোম্পানিটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার ভিডিওর মাধ্যমে বৈঠকে বক্তব্য দেন গুগল ডিপমাইন্ডের ডেমিস হাসাবিস, মেটার মার্ক জাকারবার্গ এবং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।

হাসাবিস জি২০ কর্মকর্তাদের এআই ব্যবস্থার জন্য নিরাপত্তা পরীক্ষা চালুর আহ্বান জানান।

জাকারবার্গ বলেন, দেশগুলোর ওপেন ওয়েইট এআই মডেল বা ওপেন-ওয়েট মডেলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত নয়। এসব মডেলের মূল উপাদানগুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জাকারবার্গ তার কোম্পানিকে এ ধরনের মডেলের ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থানে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বিধিনিষেধ তার সেই প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলতে পারে।

ইলন মাস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি কোম্পানিগুলোর “অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে”। চীনের বাইরে অন্য দেশগুলোর নেতাদের ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য নতুন জ্বালানি উৎস তৈরির আহ্বানও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেটা সেন্টার নিয়ে আলাপ রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ডেটা সেন্টার নির্মাণ প্রশ্নে প্রার্থীদের অবস্থান ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলছে।

জাতিসংঘের একটি প্যানেল সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছে, এআইয়ের উন্নয়ন বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া ও সরকারি নীতির চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে এআই কোম্পানি হাগিং ফেইসের অবকাঠামোয় অননুমোদিত ওপেনএআই এজেন্টের অনুপ্রবেশের মতো ঘটনাও নিজেদের পণ্য পরীক্ষা কতটা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এআই এজেন্ট এমন এক ধরনের প্রোগ্রাম, যা মানুষের খুব কম তদারকিতে কাজ করতে পারে।

চীনের এআই সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

এআই খাতের বিকাশ ও এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৈশ্বিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই জি২০ বৈঠক হচ্ছে। একই সময়ে এআইয়ে নেতৃত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছ থেকে বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

চীনের তৈরি ওপেন ওয়েইট এআই মডেলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মতো বড় কোম্পানির মালিকানাধীন ব্যবস্থার সঙ্গে সক্ষমতার দিক থেকে ক্রমেই ব্যবধান কমাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মধ্যেও এসব চীনা মডেলের ব্যবহার বাড়ছে। চীনা নেতারা এসব মডেলের ওপর হস্তক্ষেপ করলে তা সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির প্রযুক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক ফেলো বিবেক চিলুকুরি বলেন, “এটি এই প্রশাসনের জন্য আরও জরুরি করে তুলেছে যে, বাকি বিশ্ব যেন আমেরিকান প্রযুক্তি ব্যবস্থার মধ্যেই থাকে এবং বিকল্প খোঁজার চেষ্টা না করে।”

আগামী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে জি২০–সংক্রান্ত আরও কয়েকটি বৈঠক হবে। এসব বৈঠকের ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে মায়ামিতে জি২০ নেতাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

আগের এক প্রতিবেদনে রয়টার্স লিখেছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে আলাদাভাবে প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থিত হওয়ার কথা ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের।

এদিকে বৈঠকের বাইরে নর্থ ক্যারোলাইনায় কয়েকজন বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের একজন জন মন্টাভন ডেটা সেন্টার নিয়ে মাস্কের অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত জানান। তার মতে, ডেটা সেন্টারগুলোর বিপুল বিদ্যুতের চাহিদা পৃথিবীকে আরও উষ্ণ করে তুলবে।

মন্টাভন বলেন, “মি. মাস্ক প্রমাণ করেছেন যে আমরা বেশিরভাগ মানুষ যে বাস্তবতার মধ্যে বাস করি, তার সঙ্গে তিনি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।”